রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকাসহ সারাদেশেই ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে
ডিএনসিসিতে মশক কর্মী সঙ্কট, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা: প্রশাসক
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: রোববার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৩০ পিএম  আপডেট: ০২.১১.২০২৫ ৮:৫১ পিএম  (ভিজিট : ৩৪৫)
X

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই ‘এডিস মশা (ডেঙ্গু)’ভয়াবহ বেড়েই চলছে। ছোট্ট কীট এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এক সময় ছোট্ট এই কীট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ টেনে বিশেষজ্ঞরা ঠাট্টা করেই বলতেন মশা মারতে কামান লাগে নাকি। রাজধানীসহ সারাদেশেই ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়েই চলছে। 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সিটি করপোলেমনগুলোর নানা উদ্যোগ সত্বেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ফলে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্ভেগ উৎকণ্ঠা বেড়েই চলছে। অথচ ডেঙ্গু সহ সবধরণের মশা নিধন এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিবছর কয়েক শত কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। মশক কর্মীদের বেতন, কীট নাশক ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের পেছনে এতো টাকা খরচ করার পর মশা কেনো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়াও মশা মারার কল্পকাহিনী জানতে বিদেশ ভ্রমণপ্রিয় মানষিকতা সম্পন্ন নির্বাচিত মেয়র/ প্রশাসক,সরকারে বেশ কিছু প্রভাবশালী আমলাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সরকারি কর্মকর্তাদের দলবেধে দফায় দফায় বিদেশ সফরের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়। মশা মারা অভিজ্ঞতা ওইসব কর্মকর্তাদের পকেটই থাকে। এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ে সারাদেশে এসব কি হচ্ছে।

স্বাধীনতার আগে লোকজন “ছোট ছোট কাজে ঢাক ঢোল পিটানো কিংবা বড় বাজেটের টাকা খরচ করাকে, বেশ রশিকতা করেই ‘বলতেন আরে মশা মারতে কামান দাগায় কেনো”। কিন্তু বর্তমানে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কামান দাগিয়েও মরা মারা যাচ্ছে না। উল্টো এডিস মশার কামড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ না আসায় ডেঙ্গু প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু বেড়েই চলছে।

 চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ২৮৩ জনের মৃত্যু এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। এমন কি গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১,১৬২ জন। একই সাথে গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম।

আজ রোববার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১,১৬২ জন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৬১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৭৫ জন, খুলনা বিভাগে ১৫৪ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে), ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৭ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে), রাজশাহী বিভাগে ৯৮ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে) এবং সিলেট বিভাগে ৮ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়,গত জানুয়ারি থেকে আজকের ২ নভেম্বর পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭১ হাজার ৬৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২৮৩ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি ১৫,৮৬৬ রোগী। আর অক্টোবরে হাসপাতালে ভতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২,৫২০ জনে। অর্থাৎ এক মাসে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে ৪২ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত মশা দমন এবং জনসচেতনতার ঘাটতি– এই তিন কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নভেম্বর-ডিসেম্বরে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে সংক্রমণের ঝুঁকি পুরো শীতকালই থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

 ডিএনসিসিতে মশা মারার জনবল সঙ্কট বললেন প্রশাসক:
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ আজ রোববার (২ নভেম্বর) গুলশানে নগর ভবনে আয়োজিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে লোকবলের স্বল্পতাই বড় বাধা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, উপ প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক, কীটতত্ত্ববিদ প্রফেসর মো. রাশেদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও হাসপাতালের প্রতিনিধি এবং ডিএনসিসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন,আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতি হাজারে ২.৩ জন মশক নিধন কর্মীর প্রয়োজন। কিন্তু ডিএনসিসিতে প্রতি ১১ হাজারে মাত্র একজন মশক নিধন কর্মী আছে।যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। মশক নিধন কর্মী সঙ্কট একটা বড় সমস্যা রয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে ডিএনসিসি এলাকায় ৭ জন পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মশক কর্মীরা মাঠে ঘুরে ডেঙ্গুর ডেটা সংগ্রহ করন, ফলে গত ৪ মাসে অবস্থার কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কারণ মশার বংশবৃদ্ধি হয় প্রায়শই ব্যক্তিগত বাড়ির ছাদ, কিচেনের নিচে বা দুটি বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে, যেখানে সরকারি কর্মীদের প্রবেশাধিকার নেই। তবে ডেঙ্গু সমস্যাটি জটিল বিষয়।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে অফিস ব্যবস্থাপনা, পুরো কাজের জন্য অল্পসংখ্যক জনবল আছে। এই সীমিত লোকবল এবং যতটুকু সম্পদ আছে, তা দিয়ে কাজ করা অনেক কঠিন। তাই শুধু ডিএনসিসির একার পক্ষে পুরোপুরি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার (মনিটরিং সিস্টেম) মাধ্যমে কর্মক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাজের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার মনিটরকারী নিয়োগ করা হয়েছে। তারা মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে এই কাজগুলো করেন। 

উল্লেখ্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝