রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আটাবের নতুন প্রশাসক সাইফ উদ্দিন
ডিএনসিসির ওই মোতাকাব্বীর, এবার দুর্নীতির দায়ে ‘ আটাবের’ প্রশাসক থেকে আউট
আবুল কাশেম
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৫১ পিএম  আপডেট: ২৭.১০.২০২৫ ৭:২০ পিএম  (ভিজিট : ১১০৯)
X

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ট সহযোগি, ডিএনসিসির সাবেক মেয়র তিকুল ইসলামের সিন্ডিকেটর  শক্তিশালী সদস্য ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা,সরকারের উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর অপকর্মের অভিযোগের যেন শেষ নেই। ডিএনসিসিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বীর আহমেদ থাকাকালে তার বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি,ক্ষমতার অপব্যবহারের গণমাধ্যমে প্রায় প্রকাশিত হতো। এসব বির্তর্কিত কার্যক্রমের ফলে মন্ত্রণালয় থেকে ডিএনসিসির সচিব পদে নিয়োগ পেয়েও যোগদান করতে পারেননি মোতাকাব্বীর আহমেদে।

অনেক নানা চেষ্টা ও তদবিরের পর গত ৪ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদকে বহুল আলোচিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ’অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব)’ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়।  তাকে দেওয়া নিয়োগের সময় বলা হয়েছিল ভয়াবহ দুর্নীতিগ্রস্ত এই প্রতিষ্ঠান ‘আটাব’কে দুর্নীতিমুক্ত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও ভাল একটি পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্ত করতে হবে। বলতে গেলে এ যেন ‘পাতি শিয়ালের’ কাছে মুরগী পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, মোতাকাব্বীর আহমেদ গত ১২ আগস্ট ‘আটাবের’ প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওইদিন দায়িত্বকালে তিনি ঘোষণা দিয়ে ছিলেন ‘আটাবকে’ নির্ভেজাল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সুন্দর একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করবেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ সদস্যদের জন্য কাজ করতে এসেছেন। সরকারের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে পালন করবেন।
এরপর প্রশাসকের চেয়ারে বসেই ‘পাতি শিয়ালের’ মতো দ্রুত খামারের মুরগী খাওয়া শুরু করেন।তিনি বিমানের টিকিট কারসাজির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িযে পড়েন। শুরু হয় তার টিকেট সিন্ডিকেট নিয়ে বিতর্ক। মোতাকাব্বীর আহমেদ প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যমুখী বিমানের টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সাধারণত ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া টিকিট এক সময় এক লাখ টাকারও বেশি দামে পৌঁছে যায়।

আরো অভিযোগ রয়েছে, এই টিকিট সিন্ডিকেটের সঙ্গে মোতাকাব্বীর আহমেদ প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালে দুই মাসের ব্যবধানে দুইবার সবপরিবার ইউরোপ সফরে যান। অথচ সরকারি আদেশে (জিও) শুধুমাত্র তার নিজের লন্ডনে ভ্রমণের অনুমতি ছিল। কিন্তু তিনি লন্ডনের বাইরে আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সফর করেছেন।

আটাবের এই প্রশাসকে দুই দফা বিদেশ সফরের টিকিটের মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি সপরিবারে বিজনেস ক্লাসে বিদেশ ভ্রমণ করেন, যেখানে প্রতিটি টিকিটের মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা করে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, যেসব ট্রাভেল এজেন্টের মালিকদের বিরুদ্ধে টিকিট কারসাজি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এই সুযোগে ‘আটাবের’ প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ অভিযুক্তদের সঙ্গেও গোপনে একাধিকবার বৈঠক করেন এবং অবৈধভাবে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন। অবশেষে এইসব অভিযোগ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষিতেই সরকার তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে,এর আগে গত ৪ আগস্ট সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আটাবের তৎকালনি পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আদেশে বলা হয়, উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদ ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলে ছিলেন, নিয়মের বাইরে কেউ মিসগাইড করবেন না। ৪০০০ সদস্যের প্রত্যেকের মতামত শুনতে চেয়েছেন। ওই দিন থেকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে অফিস পরিচালিত হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে গত ২২ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ রেহান উদ্দিনের স্বাক্ষরিত আদেশে একই সাথে ‘আটাবের ’নতুন প্রশাসক ড. সাইফ উদ্দিন আহম্মদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী আটাবের বৃহত্তর স্বার্থে ড. সাইফ উদ্দিন আহম্মদকে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রশাসকে আগামী চার মাসের মধ্যে ‘আটাবের’কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা  নাম না প্রকাশের শতে জানান, ডিএনসিসিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রের দায়িত্বে থাকালে সরকারের উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদ তার দপ্তরকে সরকারি সম্পদ লোপাট, ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করে ছিলেন। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট হঠাৎ আগুনে পুড়ে যায। পরে ওই পোড়া মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী পুনরবাসন এবং নতুন করে দোকান নির্মানের জন্য সরকার ও ডিএনসিসির ফান্ড থেকে মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সময় ব্যবসায়ীদেরকে সরকারি কিছু সাহায্য দেওয়া হয়। কিন্তু এর পর ডিএনসিসিতে আঞ্চলিক-৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বীর আহমেদ নতুন করে ব্যবসায়ীদেরকে অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে তৎকালীন মেয়র আতিকের সিন্ডিকেট সম্পত্তি কর্মকর্তার সহযোগিতায় মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।

এই বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও অনলাইন নিউজ পোটালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শুধু তাইনয়, মোতাকাব্বীর আহমেদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র হিসেব মিরপুরে উচ্ছেদে গিয়ে উচ্ছেদ করা কয়েক লাখ টাকার মালামাল (ভাঙ্গারি) স্পটে বিক্রি করে পুরো টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেন। অথচ আইনে বলা আছে, মোবাইল কোর্টের উচ্ছেদ করা মাশামাল নিলামে বিক্রি করতে হবে এবং জরিমান করা অর্থ ওই সরকারের তহবিরে জমা দিতে হবে। কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র মোতাকাব্বীর আহমেদ এসব আইন কানুন মানতেন না। কারণ তাকে সাপোর্ট দিতেন ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ডিএনসিসির তৎকালনি মেয়র মো.আতিকুল ইসলাম।
আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝