রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরো ২ লাখ ই রিকশা আসছে, যানজটের গ্যারাকলে ফেলার মহাপরিকল্পনা
যানজটের মারাত্নক হুমকিতে রাজধানী, বুয়েটের ই-রিকশায় শত কোটি টাকার বাণিজ্যের মিশন ডিএনসিসির
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৪৫ পিএম  আপডেট: ০৪.১০.২০২৫ ৮:৪৪ পিএম  (ভিজিট : ৩৩৬)
X

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাঁধে ভর করে সুপরিকল্পিতভাবে রাজধানীকে ভয়ঙ্কর যানজটের গ্যারাকলে ফেলার পাাশাপাশি নিরীহ অটো রিকশা (ই-রিকশা) চালকদের পকেট হাতিয়ে কৌশলে শত কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

আলোচিত বুয়েটের নকশায় প্রায় দুই নতুন ‘ই-রিকশা’ ধাপে ধাপে রাজধানীতে  নামানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি ই রিকশার মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা করে। ইতোমধ্যে ঢাকা জেলার আশপাশে ডিএনসিসির প্রশাসকের সিন্ডিকেটর লোকজনের সহযোগিতায় এই রিকশাগুলো তৈরি শুরু করছেন বলে জানা যায়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে ঢাকা শহরের ভেতর এবং আশপাশের এলাকায় রাস্তা,গলিপথে প্রচুর পরিমান ই-(অটো) রিকশা,সাধারণ রিকশা,সিএনজি, প্রাইভেট কারের ছড়াছড়ি।বেপরোয়াভাবে চলাচলকারী ই -রিকশার দখলে পুরো ঢাকা শহর এবং আশপাশের এলাকা।ভয়াবহ যানজটের পাশাপাশি প্রতিদিনই বাড়ছে দূর্ঘটনা। অটো রিকশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সেই সাথে কয়েক ধাপে যুক্ত হচ্ছে বুয়েটের নকশায় আরো দুই লাখ ই রিকশা। সবকিছু মিলে পুরো শহরে রিকশা আর যানজটের গ্যারাকলে পড়বে নগরবাসী। এসবকিছু মিলে বর্তমানে ইরিকশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বুয়েটের নকশায় দুই লাখ ই রিকশা রাজধানীতে নামিয়ে শত কোটি টাকা লোপাটের শক্তিশালী মিশন মাঠে নেমেছেন। এরমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা,ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, তার ভাগ্নে লিটন, আত্মীয় মহিবুবুর রহমান,পরিবহন বিভাগের জিএম মোহাম্মদ শওকত ওসমান, পরিবহন ম্যানেজার, ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তর এবং প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা অন্তর্বতীকালীন সরকারের অনেকটা নমনীয়তার সুযোগে রাষ্ট্রীয় আইন,বিধি অমান্য করে নানা কৌশলে সরকারি এবং নিরীহ রিকশা চালকদের পকেট হাতিয়ে শত কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য করার টার্গেট বাস্তবায়নে নেমেছেন।

এসব বিষয় নিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সাথে আজকের দৈনিক পত্রিকার পক্ষ থেকে কথা হয়। প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ শুরুতেই সাফ জবাব দেন ডিএনসিসিতে তার কোন সিন্ডিকেট নেই। বহিরাগত অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি জনৈক লিটন সাহেব ও মাহবুবুর রহমান নামে তার কোন আত্মীয় স্বজন নেই। প্রশাসকের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে কেউ তদবির, দালালি ও আর্থিক সুবিধা নিতে চাইলে সাথে সাথে তাদেরকে ধরে পুলিশে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

বুয়েটের নকশায় নগরীতে ধাপে ধাপে দুই লাখ ই-রিকশা নামানোর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি কেনো ? এ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়নি। তবে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, ডিএনসিসির ওয়েবসাইটেও গণবিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কারণ ডিএনসিসি সরাসরি ‘ই রিকশা’ কিনছে না। ৪টি প্রতিষ্ঠান আগে অংশ গ্রহণ করেছে। আরো ৬/৭টি প্রতিষ্ঠান ‘ই রিকশা তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং মন্ত্রণালয় দেখবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে বুয়েটের নকশায় ই- রিকশা বানাচ্ছে। তবে কাউকেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কারিগরি কমিটি তাদের কারখানা পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিলে ওই প্রতিস্ঠানে তৈরি ই রিকশা ক্রয় করা হবে। এই প্রক্রিয়ার সাথে রয়েছেন,বুয়েটের এবং এমএসটিআই’এর অভিজ্ঞ লোকজন। ডিএনসিসি এখানে কিছুই করছে না বলে দাবি করেন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

অপরদিকে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ না করার শর্তে আজকের দৈনিক পত্রিকাকে আক্ষেপের সাথে ‘গাবতলী পশুর হাট ইজারার’ প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দায়িত্ব গ্রহণের পর গাবতলী পশুর হাটটি এক বছরের জন্য ইজারা প্রদানের জন্য জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর  কয়েক জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গাবতলী হাটটি ইজারার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এরমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৩ কোটি টাকায় গাবতলী পশুর হাট এক বছরের জন্য নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন।আর বাকী ৩/৪ জন প্রতিযোগি মাত্র ১৪/১৫ কোটি টাকার দরপত্র দাখিল করেন।কিন্তু ডিএনসিসির প্রশাসক সর্বোচ্চ দর দাতাকে গাবতলী পশুর হাটটি ইজারা দেননি। কারণ প্রশাসকের পছন্দের ও সিন্ডিকেটের সদস্য 

এক ইজারাদার মাত্র ১৪ কোটি টাকার দরপত্র দাখিল করেন। অবশেষে তার পছন্দের ওই ইজারাদারকে গাবতলী পশুর হাটটি ইজারা দিতে না পেরে, ‘এক খোঁড়া অযুহাত দেখালেন তিনি। এই হাটের ইরাজারার বিজ্ঞপ্তিটি পত্রিকায় প্রকাশ করা হলেও, ডিএনসিসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়ানি। এরপর এই ইজারার দরপত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করেন তিনি। একই সাথে খাস কালেকশনের নামে প্রশাসকের পছন্দের ওই ইজারাদারের লোকজন সাথে নিয়ে গাবতলী পশুর হাটের রাজস্ব আদায় শুরু করেন।’ 

উক্ত ইজারায় দুর্নীতির অভিযোগে নগর ভবনে দুদক অভিযান চালিয়েছিল। এরপর যৌর্থবাহিনীর অভিযানে বহিরাগতদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। অথচ বুয়েটের নকশায় রাজধানীতে ধাপে ধাপের প্রায় দুই লাখ ‘ই-রিকশা’ নামানোর কাজে কোন টেন্ডার আহবান করা কিংবা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এতে প্রমাণ হচ্ছে প্রশাসক এজাজের সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকা লোপাটের স্বার্থে ডিএনসিসিকে দুর্নীতির আখঁড়ায় পরিনত করেছেন। 

সূত্র মতে, প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের বুয়েটের নকশায়  অকেটা রিকশা নামানোর প্রস্তুতি চলছে। অথচ ঢাকায় এবং আশপাশের এলাকায় এই ধরনের অটো রিকশা বানাতে খরচ হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা। সবকিছু মিলে আগামীতে ঢাকা শহরের রাস্তা,গরিপথে শুধু রিকশা আর রিকশায় গিজগিজ করবে।

শুধু তাই নয়,ইতোমধ্যে বিনা টেন্ডারে ডিএনসিসির সিন্ডিকেট কথিত বুয়েটের আবিস্কৃত নকশায় প্রায় এক লাখ অটো রিকশার চালকদের অনুমতিপত্র লাইসেন্স প্রদানের নামে রিকশা চালকদেরকে ধাপে ধাপে ব্র্যাকের মাধ্যমে একদিনের ট্রেনিং,আপ্যায়নের বিল ভাউচার এক হাজার টাকা করে খরচ দেওয়া হচ্ছে। আর প্রশিক্ষককে ১৫ শত টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে রিকশা চালকদের একদিনের জন্য ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দেওয়ার নামে দ্বিগুন দামে ৩০০ লেপটপ ক্রয়ের ৪ কোটি টাকা খরচ করেছেন।পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৩০০ শত লেপটপ ক্রয় করা হয়েছে। ওই সব লেপটপের বাজার মূল্য মাত্র ৭০/৭৫ হাজার টাকা দামের ‘এইটপি’ মডেলের প্রতিটি লেপটপ এক লাখ ৩০/৩৫ হাজার টাকা দরে ক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে। ডিএনসিসির ফান্ড থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানা যায়। 

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৩/৪টি প্রতিষ্ঠানকে ডেকে খেয়াল-খুঁশিমতো প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তির স্বার্থে অটো রিকশা তৈরির কাজের অনুমতি দেওয়া পায়তার চলছে। সরকারি দপ্তর বা সংস্থায় পণ্যসামগ্রী বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান বা বিজ্ঞপ্তি সাধারণত পত্রিকায় প্রকাশ এবং ডিজিটাল পদ্দতিতে ওয়েবসাইটে প্রকাশের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু প্রশাসক এজাজ সিন্ডিকেট উক্ত বুয়েটের নকশায় ‘ই-রিকশা’ তৈরির কাজ দেওয়ার বিষয়ে পত্রিকায় দরপত্র আহবান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেননি। 

সূত্র মতে, ডিএনসিসির পরিবহন মহাব্যবস্থাপকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুয়েটের নকশায় ‘ই-রিকশা তৈরির কাজ পেতে আবেদন করে “আকিজ মোটরস, মনির অটো ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিউ গ্রামীণ মোটরস লিমিটেড এবং ডাইস্টার হাইটেক পাওয়ার অটোমোবাইল লিমিটেড। এই ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বুয়েটের দেওয়া ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ‘ই-রিকশা’ তৈরির করে নমনা বাছাই কমিটির সামনে উপস্থাপন করতে অনুমতি দেওয়া হয়।

 এরআগে “আকিজ মোটরস, মনির অটো ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিউ গ্রামীণ মোটরস লিমিটেড” এর তৈরি করা ই-রিকশার উপর ২৯ জুলাই মন্ত্রণালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। ঢাকা শহরে তিন চাকার অভিন্ন ডিজাইন স্টৗান্ডার্ডে পরিচালনার জন্য সরকার অনুমোদিত স্ট্যান্ডার্ড মডেলের ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুসরন করতে বলা হয়। তাদের বুয়েটের ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুসরণ করে পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে রিকশা তৈরি করতে বলা হয়। 

এরপর নগর ভবনে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ের মধ্যে “আকিজ মোটরস, মনির অটো ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিউ গ্রামীণ মোটরস লিমিটেডের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ডিজাইনে ‘ই-রিকশার’ তৈরি করে প্রদশন করা হয়। কিন্তু প্রদর্শনিতে নির্ধারিত ডিজাইনে ‘ই-রিকশা’ তৈরি না করার বিষয়টি কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আর ওইদিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাইস্টার হাইটেক পাওয়ার অটোমোবাইল লিমিটেডের তৈরি ‘ ই রিকশা’ প্রদর্শনিত  অংশ গ্রহণ করেনি। অনেক পরে এসে হাজির হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে ডাইস্টার হাইটেক পাওয়ার অটোমোবাইল লিমিটেডের তৈরি ‘ই রিকশাকে’ গ্রহণ করার পক্ষে বেশ তদবির হচ্ছে।

গত ১৮ আগস্ট ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজজের সভাপতিত্বে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় বুয়েটের নকশায় ‘ই-রিকশা’ তৈরি সংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় ডাইস্টারকে বাছাই করা হয়। 

বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে ডাইস্টার হাইটেক পাওয়ার অটোমোবাইলসের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিদুল ইসলাম ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকে বলেছেন, তারা সিটি করপোরেশনের কারও মাধ্যমে ই-রিকশা তৈরির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বুয়েটের স্পেসিফিকেশন ও ডিজাইন অনুযায়ী রিকশা তৈরি করেন। তাদের তৈরি ই-রিকশা’ অনুমোদন হয়েছে এবং তারা কার্যাদেশ পেয়েছেন।

অপর দিকে আকিজ মোটরসের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে তার‘ ই-রিকশা’ তৈরি করেছেন। কারিগরি কমিটি তাদের কিছু সংশোধনী দেওয়ার পর সিটি করপোরেশন তাদেরকে চূড়ান্ত করে। ইতোমধ্যে কারিগরি কমিটি তাদের ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেছেন।তিনি আরও জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন-প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ‘ই-রিকশা’ তৈরি করবে সরকার। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১ লাখ। এভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ই-রিকশা তৈরি করা হবে।

তবে নিউ গ্রামীণ মোটরসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, কারিগরি কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ‘ই-রিকশা’ তৈরি করেছেন। কিন্তু তাদেরটা দেখা হয়নি। একই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আকিজ মোটরসেরও অবস্থান একই হওয়ার কথা। কিন্তু রহস্যজক কারণে তারা বিবেচিত হয়েছে।

মনির অটো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক মো. মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আকিজ ও ডাইস্টার কিভাবে বাছাই হলো তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ যেদিন ‘ই-রিকশা’ দেখানোর কথা সেদিন ডাইস্টার রিকশা দেখাতে পারেনি। এছাড়া সবশেষ মিটিংয়েও তারা ছিলেন না। আর গত ১৮ আগস্টের সভায় আকিজ মোটরসের ব্যাপারেও যে নির্দেশনা দেওয়া হয়, অন্য আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে একই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই পর্যায়ে আকিজ মোটরসের বাছাই কোনো বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) এবং ‘ই-রিকশা’কারিগরি কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শওকত ওসমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ই-রিকশা’ তৈরি সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রতিষ্ঠান আহ্বানের কোনো বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়নি।‘প্রক্রিয়াগত অস্বচ্ছতা’ থেকে যায় কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যায়নি। প্রয়োজন হলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যাবে।

তিনি জানান, ‘ই-রিকশা’ সংক্রান্ত কমিটি গঠনেও ভুল রয়েছে। এখনো নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। এসব ঠিকঠাক না করে ‘ই-রিকশা’ তৈরি করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে। আগে ঢাকার রিকশা না সরিয়ে নতুন রিকশা তৈরি করলে জটিলতা বাড়বে। এ কারণে এতোদিন যা হয়েছে, সেখানে কোনো ভুলত্রুটি হলেও তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।

আ. দৈ./কাশেম










Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝