রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সভারের বৈলাপুর- কেরানীগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পর্যন্ত ৪০০ ফুর্টের বাইপাস রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প
বড় রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে, কেরানীগঞ্জের বটতলীসহ ওই এলাকার কয়েক হাজার পরিবার ভিটে বাড়ি উচ্ছেদ আতঙ্কে
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৬:১৯ পিএম  আপডেট: ৩০.০৮.২০২৫ ৬:৫০ পিএম  (ভিজিট : ৪১৬)
X

ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সভারের বৈলাপুর থেকে নেমে আসা প্রস্তাবিত অনেক বড় একটি বাইপাস রাস্তা ভাকুর্তা গ্রাম অতিক্রম করে কেরানীগঞ্জ উপজেলার বটতলী গ্রামের অনেক বাড়ি ঘরসহ সামনে আরো অনেক গ্রাম অতিক্রম করে সোৗজা মুন্সিগঞ্জ জেলার মাওয়া পর্যন্ত নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে। ফলে এই রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে অনেক গ্রাম এবং কয়েক হাজার বাড়ি,ঘর,পাকা দালান উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছেন পুরো এলাকাবাসীর।

সরে জমিন খোঁ নিয়ে জানা যায়, ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রস্তাবিত এই রাস্তাটি নির্মাণের জন্য জরিপের খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বলতে গেলে অনেক চওড়া এবং অনেক বড় রাস্তাটি নির্মাণ করতে গিয়ে বহু নিরীহ গ্রামবাসী ভিটে মাটি ছাড়া হবেন এবং  তাদের মধ্যে অনেকেরই আশ্রয় নেয়ার মতো বিকল্প জমি নেই। এই পরিস্থিতিতে নিরীহ গ্রামবাসীর সামনে শুধুই অন্ধকার আর অন্ধাকার দেখছেন।আশ্রয়হীন ও উদ্বাস্তু হয়ে পড়বেন অনেকই। এই পরিস্থিতিতে তারা সঠিক কোন দিকনির্দেশনাও পাচ্ছেন না।

তাদের অনেকের বাপ -দাদার ঐতিহ্য,পুরনো ভিটে বাড়ি,পারিবারিক করস্থান, আবাদি সামান্য জমি এবং মসজিদ পর্যন্ত ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে অনেক কষ্ট করে কেই তৈরি করেছেন ‘পাকা দালান, সেমিপাকা দালান ও বড় বড় টিনের ঘর।এসব যেন কথিত ‘নদী ভাঙ্গনের মতো’ চোখের সামনে প্রস্তাবিত ৩০০/৪০০ ফুর্ট চওড়া রাস্তাটি নির্মাণ শুরু হলে মুহুর্তের সবকিঠু তছনছ হয়ে যাবে। এসব বিষয় নিয়ে মহাআতঙ্কে ভোগছেন ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ।


গ্রামের লোকজন ভয়ে নাম পরিচয় প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছেন। যারফলে নাম প্রকাশের শর্তে আতঙ্কগ্রস্ত গ্রামবাসী জানান, বৈলাপুর থেকে নেমে আসা এই বাইপাস  সড়কটি নিমাণ প্রকল্পের  সরেজমিন যাচাই বাছাই পর্যায়ে বেশ তড়িঘড়ি করতে গিয়ে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের বাড়ি, ঘর, সেমি পাকা দালান , ৫/৬ তলা দালান, বড় বড় মসজিদ, পারিবারিক কবস্থান এবং ফসলি জমি মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তারা জানান, বৈলাপুর থেকে আসা ৩০০/৪০০  ফুর্ট  চওড়া এই বাইপাস রাস্তাটি ভাকুর্তা ইউনিয়নের ভাকুর্তা হয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলার বটতলী, বেউতা, নিমতলী, কুটিভাওয়াল হয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা অতিক্রম করে সোজা মুন্সিগঞ্জ জেলার মাওয়াস্থ বাংলাবাজারে মিলিত হবার কথা রয়েছে। এরমধ্যে সর্বশেষ গত জুলাই মাসে এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট লোকজন বটতলী গ্রামের বেশ কিছু বাড়ি, ঘর, সেমি পাকা দালান, ৫/৬ তলা দালান, বড় বড় মসজিদে লাল কালি দিয়ে নাম্বার্রিং করেছেন। এই নাম্বারিংকালে দাঁয়িত্বরত লোকজন গ্রামবাসীকে ভয়াবহ ভীতিকর তথ্য দিয়েছেন। এই বাইপাস সড়কটি নাকি ৩০০/৪০০ ফুর্ট চওড়া হবে। রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের জরিপ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই সড়ক নিমার্ণে শুরু হবে। সবার বাড়ি, ঘর, ভেঙ্গে ফেলা হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে মৌজা রেইট অনুযায়ী কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে।

তারা আরো জানান, বটতলী গ্রামসহ এই প্রকল্প এলাকায় জমির মৌজা সরারি রেইট অনেক কম। কিন্তু বাস্তবে বাজার রেইট অনেক বেশি। মৌজা রেইটের ২/৩ গুন বেশি টাকায় জমি ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। আরো পরিতাপের বিষয় হলো বেশির ভাগ লোকজনের সামান্য ভিটেবাড়ি ছাড়া তেমন কোন জমিন নেই। আবার কিছুর লোকের সামান্য আবাদি জমি আছে,ওই জমির ফসল, শবজি বিক্রি করে কোনভাবে তারা জীবন যাপন করছেন। আবার কিছু লোক বাপ, দাদার জমি বিক্রি করে বিদেশ গিয়ে ১০/২০ বছরের আয় উপার্জন দিয়ে একটি ৪/৫ তলা দালান তৈরি করেছেন।এখন জমিসহ এই দালান ভেঙ্গে বাইপাস রাস্তা নির্মাণ করা হলে,ভিক্ষারীর মতো পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।

তারা জানান,এসব বিষয় নিয়ে পুরো এলাকার লোকজনের মাঝে চলছে, প্রচন্ড হতাশা, ক্ষোভ, অস্তিরতা। তাদের আরমের ঘুম আজ হারাম হয়ে গেছে। অথচ বটতলী গ্রামে আরিচা মহাসড়কের আমিন বাজারস্থ শালেপুর ভাঙ্গাব্রিজ থেকে একটি প্রায় ৩৫/৪০ ফুর্ট চওড়া আরেকটি বাইপাস সড়ক মধুমতি মডেল টাউনের পাশ দিয়ে মোগরাকান্দা,আউয়াল মার্কেট হয়ে উত্তর বাহের দিয়ে বটতলী গ্রাম হয়ে একটি রাস্তা বেউতা, নিমতলী, কুটিভওয়াল, আর্টিবাজার হয়ে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে মিলিত হয়েছে। আরো একটি বাইপাস রাস্তা বটতলী গ্রাম পাড় হয়ে ইটখোলা,সিরাজনগর হয়ে কলাতিয়ার বাজারে গিয়ে একাধিক বাইপাস রাস্তার অতিক্রম করে মুন্সিগঞ্জ জেলার মাওয়াস্তা বাংলাবাজার পর্যন্ত মিলিত হচ্ছে।

বটতলী গ্রামবাসীর একটাই দাবি,তাদের বাড়ি,ঘর, মসজিদ. পারিবারকি কবরস্থান যেকোন মূলে রক্ষা করতে হবে। একটি রাস্তার নির্মাণের কারণে তাদের পথের ফকির বানানোর এই অমানবিক বিষয়টি তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। আরো অধিকতর যাচাই বাছাই করে বিকল্প এলাকায় এই সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়েছেন এলাকা বাসী।

আ. দৈ. কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝