রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিএমপির তদন্ত কমিটি গঠন
বুয়েট শিক্ষার্থীকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে পিটাচ্ছে পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৫:১৪ পিএম  আপডেট: ২৯.০৮.২০২৫ ৫:১৮ পিএম  (ভিজিট : ১৬৪)
X

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও বুটদিয়ে লাথি মারার দৃশ্যটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই ছবিতে দেখা যায় এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছেন একজন পুলিশ সদস্য এবং তাকে মাটিয়ে ফেলে টিপটাচ্ছেন। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঐ শিক্ষার্থীর নাম রাফিদ জামান খান।  এদিকে এই ঘটনায় ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে।

রাফিদ জামান খান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থী।পড়েন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষে।

রাফিদ জামান খান বলেন, পেছন থেকে একজন পুলিশ তার মুখ চেপে ধরে মাটিয়ে ফেলে দেন। ঘটনার পরে ভিডিও দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, যিনি ফেলে দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন ডিসি মাসুদ আলম।

রাফিদ আরও বলেন, ‘মাটিতে ফেলার পরে আমাকে আসলে খুবই আনপ্রফেশনালভাবে ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আমাকে তারা বুট দিয়ে লাথি মেরেছে। পিটাইছে। এমনকি একজন সদস্য হেলমেট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করছেন।’

তার আগে, গত বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল, জলকামান ছোড়ে পুলিশ। পরে লাঠিচার্জও করে। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম একজন শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছেন,এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছবি ও খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

তবে গত বৃহস্পতিবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সম্প্রতি ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলমকে নিয়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এক ছাত্রের মুখ চেপে ধরার একটি ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এটি ডিএমপির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। 

কে বা কারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে উক্ত ছবিটি তৈরি করে জনমনে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। ছবিটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বুঝা যায়, তা সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এবং বাস্তবতা বিবর্জিত।

তবে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলছে, ডিসি মাসুদ আলমের আন্দোলনকারীর মুখ চেপে ধরার ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নয়। প্রকৃতপক্ষে আসল ছবিকেই এআই দিয়ে তৈরি বলে প্রচার করেছে ডিএমপি।

তথ্য যাচাইকারী বা ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব আজ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলছে বুয়েট শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরার ছবিটি এআই দিয়ে বানানো নয়। রাফিদ দাবি করেন, ছবিটিতে যে শিক্ষার্থীকে দেখা যাচ্ছে সেটি তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই এআই জেনারেটেড না।’
ঘটনার দিন যখন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছান, তখন আর সামনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান রাফিদ। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে কোনো ধরনের ধস্তাধস্তিতে জড়াব না। এ জন্য সড়কে বসে পড়ি। যেন পুলিশের কাছে মনে না হয় যে আমরা অ্যাটাকিং পজিশনে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাসের শেল) নিক্ষেপ করে। আমি যেখানে ছিলাম তার কিছুটা পেছনে টিয়ারশেলটা পড়ে। এরপরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপ করা শুরু করে। টিয়ারশেল পড়ার পর আন্দোলনকারী অনেকে পিছু হটে। আর সামনে থাকারা আটকে পড়ে যায়। তখন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।’

রাফিদ আরও বলেন, ‘ওই অবস্থায় আসলে আমি ওখানে আটকা পড়ে গিয়েছিলাম। আমি একটু ডিসওরিয়েন্টেড হয়ে পড়ছিলাম। তো তারপরে দেখি যে আমাকে একটানা মারা হচ্ছে। আমার পেছন থেকে মারতেছে।’

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় গত বুধবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝