ফিল্ম আর্কাইভের ডিজির বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার ঘুষ দাবির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। একটি ‘সফট বাংলা’ ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠানের কাছ তিনি ২০ লাখ টাকা দাবী করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ১ কোটি ৭১ লাখ টাকার একটি টেন্ডারে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক আবদুল জলিল ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই ঘুষ টাকা দিতে না পারায় তার প্রতিষ্ঠানকে তিনি কালো তালিকাভুক্তর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত মালামালের অর্থও আটকে দিয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন সেই প্রতিষ্ঠানের কর্নধার। তার ঘুষের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী।
তথ্য মন্ত্রনালয়ে সত্রে জানা গেছে, মহাপরিচালক হিসেবে আবদুল জলিলকে নিয়োগ দেয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের লোকদের সাথে তিনি খারাপ ব্যবহার করছেন বলে একাধিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাপরিচালক পূর্বের দপ্তর ছেড়ে বিশেষ তদবির করে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে এসেছেন। তিনি যোগদান করার পর থেকেই একটা বলয় তৈরি করেছেন। তার নিজস্ব লোকদেরকে কাছে নিয়ে এসেছেন এবং তাদের দিয়েই অনৈতিক বিভিন্ন কাজ করাচ্ছেন।
এছাড়া পাশাপাশি নিজস্ব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ করাচ্ছেন এবং সেখানে নিজের মতো করে কমিশন বাণিজ্য করছেন। তার পূর্বপরিচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থার্ড আই এবং ফিল্ম আর্কাইভের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রাশেদুল আলম গাজী এবং তার পরিচির প্রতিষ্ঠান উম প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার শহিদুল ইসলাম ( আওয়ামী লীগের এমপি নিক্সন চৌধুরীর চাচাতো ভাই) এদের নিয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে দরপত্র অংশগ্রহন করাচ্ছেন। থার্ড আই কোম্পানীকে কাজ দেয়ার জন্য ই-জিপিতে ওটিম বাদ দিয়ে এলটিএমে টেন্ডার করে।
এ ব্যাপারে ‘সফ্ট বাংলা’ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কুদরত এলাহী বলেন, আমাদের দীর্ঘ ১৯ বছরের সুনামের সহিত কাজ করছি। কোন প্রকার দূর্নীতি, জালিয়াতি, প্রতারনার ঘটনা নেই। সরকারি, আধা সরকারি, প্রতিষ্ঠানে আমাদের কোন কালো তালিকাভুক্তির ইতিহাস নেই। তিনি কেনো আমাদের কালো তালিকাভুক্ত করছেন।
তিনি আরো বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি মহাপরিচালক হিসেবে আবদুল জলিল বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে যোগদান করেন। গত ০৪ মার্চ আমাদের তার দপ্তরে সাক্ষাতের জন্য ডাকেন ও মালামাল সরবরাহের সম্পর্কে জানতে চান। আমরা পূর্বের সকল ঘটানা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাই, তখন তিনি আমাদের নিকট ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেন, যদি এই টাকা দিতে আমরা সম্মত হই, তাহলে যে কোন সময়ে আমরা এই মালামাল সরবরহ করতে পারবো।
এতে করে মালামাল সরবরাহ মেয়াদ নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। বিল পেতে কোন সমস্যা হবে না। চাহিদাকৃত অর্থ প্রদানে অসম্মতি জানিয়েছিলাম। তারপর তিনি আমার প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেন। এছাড়া তিনি সরবরাহকৃত অর্থের বিল দিবে না বলে জানিয়ে দেন। তাই এব্যাপারে আদালতে মাধ্যমে আমরা জবাব চেয়েছি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক আবদুল জলিল বলেন, ‘বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ কর্তৃক বাস্তবায়িত “দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মুক্তিযুদ্ধের অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পটি গত ৩০ জুন ২০২৫ সালে অসমাপ্ত রেখে সমাপ্ত করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পটি চলমান থাকা অবস্থায় ১টি ডিজিটাল সিনেমা প্রজেক্টর সরবরাহ ও স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘সফট বাংলা’ এর সাথে গত ৩০ জুন ২০২৪ সালে চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের সময়সীমা ছিল গত ১৫ জুন ২৪ সাল পর্যন্ত । কিন্তু ‘সফ্ট বাংলা’ নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ‘সফট বাংলা’ কর্ণধার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিচ্ছে। যা কোনো কিছুই সত্যি না। শুধু হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার পিছনে লেগেছে।’




















