রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালুর পরিকল্পনায় দুশ্চিন্তায় ভারত
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫, ৮:৩১ পিএম   (ভিজিট : ২০৭)
X

বিগত সরকারগুলোর অনীহা আর আন্তর্জাতিক জটিলতায় আটকে আছে লালমনিরহাট বিমানবন্দরের কার্যক্রম।বিমানবন্দরটি জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূকৌশলগত কারণে দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বেশ কয়েকবার চালুর উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি।

প্রায় ৫৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। আর এনিয়ে শঙ্কিত ভারত। দেশটির দাবি, চীনের সাহায্যে আবার চালু করা হচ্ছে এটি। 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটি ভারতের সীমানার খুব কাছাকাছি, মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে। এটি ভারতের সিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি, যাকে ‘চিকেন নেক’ বলা হয়। (যদিও গুগল ম্যাপ ও বাংলাদেশসহ পাশ্বর্বর্তী কয়েকটি দেশের মানচিত্র ঘেঁটে দেখা যায়, লালমনিরহাট বিমানবন্দর থেকে ভারতের ‘চিকেন নেক’ খ্যাত শিলিগুড়ি করিডরের দূরুত্ব ১৬০ কিলোমিটার।)

রত্মদ্বীপ চৌধুরীর লেখা প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, যদি চীন এ বিমানবন্দর সংস্কারে সাহায্য করে, তাহলে তারা হয়তো সেখান থেকে সামরিক সরঞ্জাম যেমন ফাইটার জেট, রাডার ও নজরদারি যন্ত্র বসাবে। এ কারণে, ভারত দ্রুত উত্তর-পূর্ব রাজ্যের ত্রিপুরার কাইলাশহর বিমানবন্দর সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। 

যদিও এটি মূলত একটি বেসামরিক বিমানবন্দর থাকবে, তবুও সামরিক বিমান চলাচলের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে। এ পদক্ষেপ শুধু বাংলাদেশের লালমনিরহাটের জন্য নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ভারতের পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও ধরা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, গত বছর আগস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। তার পরিবর্তে নতুন সরকার এসেছে, যারা ভারতের সঙ্গে তেমন ঘনিষ্ঠ নয় এবং চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। অতএব, চীনের সাহায্যে বাংলাদেশের এ বিমানবন্দরর সংস্কার ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ।

এতে আরও বলা হয়, লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালুর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ত্রিপুরার ‘কাইলাশহর বিমানবন্দর’ চালু করবে ভারত। ১৯৯০-এর দশকে বন্ধ হয়ে যায় এটি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কাইলো ফ্লাইট নামে বাংলাদেশের একটি মুক্তিযোদ্ধাদের বিমান দল এখান থেকে কাজ করেছিল। এটি ভারতের বিমানবাহিনীর সহায়তায় কাজ করত। এ দলটি পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্ম দেয়।

রত্মদ্বীপ আরও লিখেছেন, কাইলাশহর বিমানবন্দর সংস্কার হলে ত্রিপুরার বিমান যোগাযোগ অনেক উন্নত হবে। কারণ এখন ত্রিপুরায় একমাত্র বড় বিমানবন্দর আগরতলা শহরে। ২০২৫ সালের ২৬ মে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চ পর্যায়ের দল এয়ারপোর্টটি পরিদর্শন করেছে এবং তারা সরকারকে পরবর্তী পরিকল্পনা জানাবে।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার বিকালে সেনাসদরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স অধিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা বলেন, দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ছে, সে অনুযায়ী আমাদের প্রয়োজনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলেও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে এটি নতুন করে সচল করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিমানবন্দরটির পরিধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে এবং সেখানে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আপনারাই জানেন, ওই এলাকায় একটি এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে। এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ বিমানবন্দরকে কাজে লাগানো হবে। এটি একটি জাতীয় সম্পদ এবং দেশের প্রয়োজনে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

আ.দৈ/আরএস





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝