কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাড়ি-দোকানে ভাঙচুর, মোটরসাইকেলে আগুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ি, দোকান ও একটি এনজিওর কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদী নজুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় সমাজসেবক মিজানুর রহমান (৪০) বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি ফুটবল খেলার উদ্বোধন শেষে মিজানুর রহমান ও তার অনুসারীরা বাড়াদী নজুর মোড়ের একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রামদা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে মিজানুর রহমানের অনুসারী দুলাল হোসেন দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় তার ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলসহ আরও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
পরে হামলাকারীরা আশপাশের কয়েকটি বাড়ি, দোকান ও একটি এনজিও কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় একটি বাড়ি থেকে ৫২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে গুলিবর্ষণের বিষয়টি পুলিশ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি। মিজানুর রহমান বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান দলের লোকজন আমার ও আমার লোকদের উপর হামলা চালায়।
তিনি বলেন, একটি বিশেষ মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়াসহ কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। শুক্রবার রাতে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। আল্লাহর রহমতে ও কর্মীদের সহযোগিতায় আমি প্রাণে বেঁচে গেলেও আমার কর্মীদের মোটরসাইকেল ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আমার দুজন কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে বলে তথ্য পেয়েছি। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে হামলাকারীদের মধ্যে মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছে। মিজানুর রহমান মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার উপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানান তিনি।
আ.দৈ/আরএস




















