বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন মির্জাপুর শাহী মসজিদ
সাব্বির হোসেন, পঞ্চগড়
প্রকাশ: সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫, ৪:০০ পিএম   (ভিজিট : ২১১)
X

মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম এক নিদর্শন মির্জাপুর শাহী মসজিদ। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক পর্যটক দেখতে আসেন মসজিদটি।মসজিদটি কত সালে নির্মিত হয়,তা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য আছে।তবে এটা যে মোগল স্থাপত্য,তাতে একমত সবাই।

কারণ,মসজিদটিতে রয়েছে মোগল স্থাপত্য রীতির সুস্পষ্ট ছাপ।মসজিদের শিলালিপি ঘেঁটে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধারণা করেন,১৬৫৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছে।এ ছাড়া ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে (সম্ভাব্য) ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে নির্মিত মসজিদের সাথে সাদৃশ্য থাকায় এই মসজিদটিও সমসাময়িক কালে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নে উল্লেখ করা হয়েছে,দোস্ত মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি এটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন।মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে পারস্য ভাষায় লিখিত মধ্যবর্তী দরজার উপরিভাগে একটি ফলক রয়েছে।ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয়,মোগল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে নির্মিত।

মসজিদটির নির্মাণ শৈলীর নিপুণতা ও দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য এখনও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। ইসলামিক টেরাকোটা, ফুল ও লতাপাতার কারুকার্য খোদাই করা আছে মসজিদটির দেওয়াল জুড়ে। মসজিদের সামনে আয়তকার টেরাকোটার কারুকার্যগুলো একটির সঙ্গে আরেকটির মিল নেই। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট ও প্রস্থ ২৫ ফুট।একই সারিতে আছে ৩টি গম্বুজ।এর চারকোণায় আছে ৪টি মিনার।সামনে আছে ৩টি দরজা।

সদর দরজা ও মাঝখানের গম্বুজের সামনের দিকে দু’পাশে আছে ২টি ছোট মিনার।মসজিদের ভেতরের অংশে খোদাই করা আছে ফুল,লতা-পাতা ও কুরআনের আয়াত সংবলিত ক্যালিগ্রাফি। মসজিদের সামনে আছে একটি খোলা স্থান।এর একপাশে আছে সুসজ্জিত পাকা তোরণ।উভয় পাশেই আছে আকর্ষণীয় নকশা ও খাঁজ কাঁটা স্তম্ভ। তার মাঝে চ্যাপ্টা গম্বুজ তোরণের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।এ মসজিদের পাশেই আছে একটি নূরানী মাদ্রাসা।সামনের দিকে আছে প্রাচীন আমলের একটি অব্যবহৃত কূপ।

রংপুর থেকে দেখতে আসা আনোয়ার হোসেন নামের এক দম্পতি বলেন,অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল মসজিদটি দেখার।৫০০-৬০০ বছর আগের একটা মসজিদ এত সুন্দর তার কারুকার্য দেখে মুগ্ধ। মসজিদের খাদেম মির্জা রবিউল ইসলাম বলেন, এক সময় প্রবল ভূমিকম্পে মসজিদটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায়।তখন মসজিদটি ইরান থেকে কারিগর আনে সংস্কার করা হয়েছে। তবে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটির তত্ত্বাবধায়নে এলাকাবাসীর পাশাপাশি সরকারের দৃষ্টিপাত জরুরি মনে করেন তিনি।

মসজিদের ইমাম মো:শামসুল হক বলেন,শুনে এসেছি সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ বছরের পুরনো মসজিদটি।পাশে ইমাম বাড়াও রয়েছে।এতে বুঝা যায়,যারা নির্মান করেছে দ্বীন ইসলাম প্রচার করার জন্য করেছে।

আ.দৈ/আরএস




Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝