সরিষাবাড়ীতে কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর
জামালপুর প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মহাশ্মশান কালী মাতা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা প্রতিমাগুলো ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, পুলিশ, ডিবি, ডিএসবি, এনএসআই এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।
মন্দিরের সভাপতি উত্তম কুমার তেওয়ারি জানান, মন্দিরে ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কিছু নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সে সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না। তিনি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার কামরাবাদ এলাকায় অবস্থিত এই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর রহস্যজনক মনে হচ্ছে। অনেকে ধারণা করছেন, মন্দির কমিটি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, সরিষাবাড়ীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দির নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন শ্রী রমেশ চন্দ্র সূত্রধর ও দীপক কুমার সাহা এবং অন্যপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শ্রী কালা চাঁন পাল ও অ্যাডভোকেট শিবলু কুমার ঘোষ। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শ্রী শ্রী খাগুরিয়া কালী মাতা মন্দির এবং সরিষাবাড়ী রেলস্টেশন এলাকায় আর কে মিশন কমিটির পদ নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিরোধ থেকেই ভাঙচুর ও চুরির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
অ্যাডভোকেট শিবলু কুমার ঘোষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, "এটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নয়। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র এই ধরনের কর্মকাণ্ড করছে। আমরা সঠিক তদন্ত এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।"
জামালপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর এবং চুরির এই ঘটনা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় জনগণ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো গাফিলতি থাকবে না।
আ. দৈ./ সাধ




















