জিডিপি বৃদ্ধির হার এবং মূল্যষ্ফীতির পূর্বাভাস- দেশ ও জাতীর জন্য চরম অশনিসঙ্কেত
সুভাষ দাশগুপ্ত

২০২৬-২৭ জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.২ শতাংশ এবং মূল্যষ্ফীতি ১০.৯০ শতাংশের পূর্বাভাস- দেশ ও জাতীর জন্য চরম অশনিসঙ্কেত
থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরে বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফ-র ৭ দিনের (১২-১৮ই অক্টোবর ২০২৬) যে বার্ষিক বৈঠক শুরু হয়েছিল, তা সত্যিকার অর্থে আজই শেষ হয়ে যাবে। দুইটি প্রতিষ্ঠানই তাদের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এই বৈঠকে। এই দুই রিপোর্টই হচ্ছে বৈঠকের প্রাণ। পৃথিবীর দেশগুলি তাদের দেশের বর্তমান অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যতের পূর্বাভাস সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে। এই বৈঠক থেকে আর কিছু পাওয়ার নেই। বাকি ৫ দিন প্রত্যেক দেশ তাদের বাৎসরিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করবে এবং কোন কোন দেশের সাথে সাইড বৈঠক হবে।
বাংলাদেশ নিয়ে দুটি রিপোর্টে দেশের অর্থনীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। আমাদের আশান্বিত হওয়ার কিছুই নেই- আছে শুধু হতাশা। বাংলাদেশ নিয়ে যে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে তা ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ আসার পথকে সংকুচিত করবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এত বড় বিশ্ব ফোরামে, বাংলাদেশ নিয়ে যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে তাকে আমরা চ্যালেঞ্জ করতে যাব না, আমরা আমাদের মত করে উন্নয়ন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাব।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন উনি বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ-র দেওয়া তথ্যগুলো নিয়ে নিরব থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। এর উত্তর খুঁজতে যেতে হবে ২০২৪ সালে ক্ষমতা দখল করার পর যখন ডাভোসে “বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে” গিয়ে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ সহ অনেক দাতা সংস্হাকে শেখ হাসিনাকে বিশ্ব দরবারে হাজির করার জন্য অতিরঞ্জিত তথ্য সরবরাহের অভিযোগ এনে তিনি বলেছিলেন আসলে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সময়ে কোন উন্নয়নই হয়নি। ঐ সময়, ড. ইউনূস বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে হেয় করেছিলেন।
কিন্তু দাতা সংস্থা তাদের দেওয়া তথ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন আনেনি। তাই হয়তবা অর্থমন্ত্রী প্রধান দাতা সংস্থাগুলোর তথ্য নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। কারণ কোন কাজে আসবে না। আরও একটা বিষয় হচ্ছে যে তথ্যগুলো বের হয়ে এসেছে সবই সত্য, এখানে বাংলাদেশের দ্বিমত পোষণ করার কিছুই নেই।
- জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান
২০২৫-২০২৬ সালে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৬ শতাংশ।২০২৬-২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে মাত্র ৩.২ শতাংশ। এখানে বলা প্রয়োজন আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬-২৭ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ৪.৩ শতাংশ। দেশের অর্থনীতির বাস্তব অগ্রগতি দেখে তারা কমিয়ে এনেছে ৩.২ শতাংশে। ২০২৭-২৮ সালের জন্য বলা হয়েছে ৪.০ শতাংশ।
আরও শঙ্কার কারণ হচ্ছে ২০২৬-২০২৭-এ মূল্যষ্ফীতি দাঁড়াবে ১০.৯০ শতাংশে। আওয়ামিলীগ সরকারের পর, পরবর্তী ৫ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩.০ থেকে ৩.৫ শতাংশের মধ্যেই যদি থাকে তাহলে ১৮ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ কি?
লেখক: প্রাক্তন সিনিয়র টেকনিকাল অফিসার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।




















