ফেব্রুয়ারি নাগাদ সারের চাহিদা ৪৮ লাখ টন, ঘাটতি মেটাতে কতটা প্রস্তুর সরকার
সুভাষ দাশগুপ্ত

আসছে অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশে প্রায় ৪৭ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৪ টন সারের প্রয়োজন হবে-সরকার কি এই সময়ের মধ্যে বিদেশ থেকে দেশে প্রয়োজনীয় সার আনতে পারবে?
গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখ (আমন ধানের চারা লাগানো শুরু হয়) থেকে আজ ২৪ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট সারের চাহিদা (ইউরিয়া, ডিএপি,টিএসপি ও এমওপি) সারের চাহিদা ছিল ১৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬ শত ৬৮ টন। সরকার কি এই পরিমাণ সার অন্তত ডিলারের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে? এ সত্যটা জানা গেলে বাকি সব হিসেব নিকেশ বের করা যাবে।
সরকার বলছে ১৩ লাখ টন সার মজুদ আছে, কেউ কেউ বলছে ১১ লাখ টন। অন্যদিকে (অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ২০২৭, ফেব্রুয়ারি) মোট সার লাগবে ৪৭ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৪ টন। এর মধ্যে শুধুমাত্র অক্টোবর ও নভেম্বরে প্রয়োজন হবে ১১ লাখ ৮ হাজার ৩৮ টন।
উল্লেখ্য, এই হিসেবে দেশে মাসে যে প্রায় ৭৫০০০ টন ইউরিয়া প্রস্তুত হয় তা বিবেচনায় আনা হয় নি। কারণ,গ্যাস ও বিদ্যুৎ-র ঘাটতিতে প্রকৃত কত উৎপাদন হতে পারে তার সঠিক তথ্য জানা নেই।
এতে করে দেখা যাচ্ছে সারের যে মজুদ আছে (১১ লাখ টন) তা দিয়ে অক্টোবর ও নভেম্বরে চাহিদা মেটাতে, বর্তমান অরাজক পরিস্থিতি থাকলে, তাও ডিলার পর্যন্ত পৌঁছাতে সরকারকে হিমশিম ক্ষেতে হবে। যদি পারেও তবে মার্চ, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য যে ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার ২৬৬ টন সার প্রয়োজন হবে তা কি সরকারের পক্ষে দেশে আনা, আদৌ সম্ভব হবে?
লেখক: প্রাক্তন সিনিয়র টেকনিকাল অফিসার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।
আ.দৈ/আরএস




















