বেতন বৃদ্ধি - আমলার মন, গরীবের জীবন ও অসহায় দেশ
সুভাষ দাশগুপ্ত

ড. ইউনূসের কুকর্ম এবং বর্তমান সরকারের সক্ষমতা ও দূরদর্শিতার অভাবের কারণে-সম্পূর্ণ সমাজ ব্যাবস্থা আজ ভঙ্গুর কাঠামোতে দাঁড়িয়ে আছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, যে কোন সময় বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থা ভেঙে পরার সম্ভাবনা বাড়ছে।বেতন বৃদ্ধি সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না, বরং বাড়বে।
যে সরকার প্রায় প্রতিদিনই ধার করে চলে সে সরকার কেন এই বেতন স্কেল ঘোষণা করলো? এক নতুন বিপদ কেন ডেকে আনল?
ইচ্ছে করে এ কাজ করেনি, তবে উপায় নাই-ক্ষমতার লোভ। ক্ষমতায় যারা রাখবে তাদের থেকে কেনা হচ্ছে যুদ্ধ বিমান, অন্যান্য অস্ত্র সামগ্রী ও বোয়িং বিমান।
চীন থেকে মোট যে ২৪ টা যুদ্ধবিমান কিনছে তার মূল্য হচ্ছে ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ টাকায় ২৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা, পরিশোধ করতে হবে ৮ বছরে। বছরে শোধ করতে হবে ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। যদিও, ৮ বছর পর এই বিমানগুলোর কার্যক্ষমতা কতটা বজায় থাকবে তা সময়ই বলবে।
আরও বিপজ্জনক হচ্ছে এবছর মে মাসের এক তারিখ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে ২৫ টি বোয়িং বিমান কেনার যে চুক্তি করা হয়েছিল তার প্রথম কিস্তি হিসেবে ১৪ টি বিমান কেনার চুড়ান্ত চুক্তি দুই দেশের মধ্যে সাক্ষর হয়েছে, যার মোট মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমান বাংলদেশের টাকায় ৪৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। মোট ২৫ টির বাইরেও গত দুই দিন আগে আরও একটি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে। যা, প্রকাশ পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের X-হ্যান্ডেলে এবং আমাদের জানিয়েছে সের্গেই গোর। তবে কতগুলো বিমান কেনা হবে এবং মোট মূল্য কত হবে, তা জানানো হয়নি।
এখানে যদি তুরস্ক, পাকিস্তান, ও চীনের থেকে যুদ্ধবিমান ছাড়াও আরও যেসব অস্ত্র কেনা হচ্ছে তা যদি জানা যেত, তবে সহজেই অনুমান করা যায় বোয়িং এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম কেনার জন্য বছরে যে কিস্তি দিতে হবে তা সরকারের বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি বাবদ ব্যয়ের (১, ০৫, ৫৮০ কোটি টাকার )চেয়ে বেশি ছাড়া কম হবে না। এছাড়াও এ টাকার এক বৃহৎ অংশ সরকার নেবে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ থেকে যেমন, অবকাঠামো নির্মাণ, গবেষণাকে সংকুচিত টাকা সাব, শুন্য পদ পূরণ না করা, আরও অনেক খাতের বার্ষিক জন্য বরাদ্দ কমিয়ে বেতনের আওতায় আনতে বাধ্য হবে। এতে করে দেখা যাবে বাৎসরিক বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে, তা ঠিক আছে, তবে অন্যান্য খাতের বরাদ্দ কমিয়ে বেতন খাতে নিয়ে আসবে। তাই বেতন বৃদ্ধি সরকারের ওপর চাপ পরার সম্ভাবনা কম।
তারপরও বেতন গ্রেড (১৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৭৫ ০০০ টাকা) চার ধাপে বাস্তবায়ন করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করার সম্ভাবনা কতটুকু তা সময়ে বলবে। তার চেয়েও বড় ভয় হচ্ছে এই “বেতন বৃদ্ধি” দেশে অসন্তোষের মাত্রা কমাতে কোন সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে হয় না।
তারপরও বেতন বৃদ্ধি কেন ঘোষণা হলোঃ
১।জন-অসন্তোষের তীব্রতা হ্রাস করা, যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা; চরম বিদ্যুৎও জ্বালানি বিপর্যয়; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং খাদ্যের ক্রমাগতভাবে মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা ।
২।আমলাদের বেতন অনেক হারে বৃদ্ধি করে তাদেরকে সরকারের প্রতি বিশ্বস্ত করে তোলা, কারণ সরকার এখনও অবধি নির্ভরযোগ্য আমলা খুঁজতে ব্যস্ত ।
এই বেতন কাঠামো আমলা, প্রশাসন এবং মধ্যবিত্ব সমাজকে আস্তায় আনার আগাম ব্যর্থ প্রচেষ্টা। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে দেশের।
লেখক: প্রাক্তন সিনিয়র টেকনিকাল অফিসার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।
আ.দৈ/আরএস




















