বিয়ের আগেই ডেঙ্গু কেড়ে নিল প্রাণ, মরদেহে সিঁদুর পরালেন হবু বর
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

আগামী ১৬ অক্টোবর বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল নার্স বৃষ্টি ঘরামির। দুই পরিবারে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি, কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল। এর মধ্যেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ২৫ বছর বয়সী এই তরুণী। মৃত্যুর পর হবু স্ত্রীকে শেষ মর্যাদা দিতে তাঁর কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন হবু বর সবুজ মণ্ডল।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ি গ্রামের বৃষ্টি ঢাকার শ্যামলীর একটি ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় নয় মাস ধরে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। গত শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর দিন সকালেও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বি নেগেটিভ রক্তের জরুরি প্রয়োজনের কথা জানিয়ে রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলেন বৃষ্টি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বৃষ্টির বড় বোন মেঘনা ঘরামির অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় তাঁর শরীরের তাপমাত্রা ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠেছিল। পরে তিনি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। যথাসময়ে চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় বৃষ্টির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বৃষ্টির সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকার যুবক সবুজ মণ্ডলের। মৃত্যুর পর বৃষ্টির কপালে সিঁদুর পরানোর বিষয়টি সবুজের ইচ্ছাতেই করা হয় বলে জানান তাঁর বোন। ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে আসার সময় সবুজের বাবা-মা বিয়ের জন্য কেনা নতুন পোশাক ও গয়নাও সঙ্গে নিয়ে আসেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি রোগীদের প্রতিও আন্তরিক ছিলেন বৃষ্টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন পোস্টে রোগীদের প্রতি সহমর্মিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এক আহত কিশোরীর সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতাও আবেগঘন পোস্টে তুলে ধরেছিলেন তিনি।
১৬ অক্টোবরের বিয়েকে ঘিরে দুই পরিবারে যখন আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল, তখনই বৃষ্টির মৃত্যুতে থেমে গেল সব আয়োজন। বিয়ের সাজে নয়, মৃত্যুর পর হবু বরের হাতে কপালে সিঁদুর নিয়েই শেষ বিদায় হলো এই তরুণীর।
আ.দৈ/আরএস




















