গ্রাহককে ফোন করে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, মাগুরায় চারজন বরখাস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকের কাছে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন শালিখা উপজেলার আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী।
মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্য তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে মহিতুল ইসলামকে সরিয়ে মহম্মদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম শাহিন আহসানকে ভারপ্রাপ্ত জিএমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া খাতুনের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে তাঁর নামে ৫০৬ কোটি টাকার বেশি বিল ইস্যু করা হয়। বিলটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিলটি সংশোধন করে। সংশোধিত বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা পরিশোধ করেন আলেয়া খাতুন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানার পর মন্ত্রী তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে বিলের এই অস্বাভাবিকতার কারণ হিসেবে মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতার কথা উঠে এসেছে। মিটার পরিবর্তনের সময় সিল নম্বর ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসানোর কারণে এত বড় অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুনকে ফোন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ফোনালাপে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় গ্রাহকের যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও গ্রাহককে পরামর্শ দেন মন্ত্রী। ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আলেয়া খাতুন বলেন, মন্ত্রী বেশি কিছু বলেননি, শুধু দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে অনেক ফোন আসায় কে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ফোন করেছিলেন, তা নিয়ে তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন। একই বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ.দৈ/এসআর




















