বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসিফ নজরুলের একক: তদন্ত কমিটি
স্পোর্টস ডেস্ক

নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এককভাবে নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে মঙ্গলবার ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার প্রয়োজনও তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অনুভব করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে তিনটি কলকাতা এবং একটি মুম্বাইয়ে নির্ধারিত ছিল। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও তা নাকচ হয়। এরপর সরকার বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিসিবি তা মেনে নেয়।
তদন্ত কমিটির ভাষ্য, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর জানান, প্রতিবেদনে যে এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, তিনি তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যে পরবর্তীতে ভিন্নতা দেখা যায়। ২২ জানুয়ারি তিনি জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সরকারই বাংলাদেশ দলকে ভারতে পাঠাচ্ছে না। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি ও ক্রিকেটাররা।
তদন্ত কমিটি মনে করে, এই ঘটনায় বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে ক্রিকেটারদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে যেন কোনো ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
আ.দৈ/আরএস




















