আছিয়া হত্যা: হিটুর মৃত্যুদণ্ড বহালে মায়ের সন্তোষ, দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার। তবে শুধু রায় বহাল নয়, দ্রুত তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আছিয়ার মা।
আয়েশা আক্তার বলেন, হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মনে শান্তি আসবে না। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত রায় কার্যকর করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
আছিয়ার মা আরও বলেন, তাঁর সন্তান কোনো অপরাধ করেনি। যে নির্মম কষ্ট নিয়ে মেয়েটি পৃথিবী ছেড়ে গেছে, সেই কষ্ট যেন আর কোনো মাকে পেতে না হয়। হিটু শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে সমাজে শিশুদের ওপর এমন অপরাধ কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও পরে ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় শিশুটি।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।
১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে ডেথ রেফারেন্স ও হিটু শেখের আপিলের ওপর শুনানি শেষে সোমবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে অপর তিন আসামির খালাসের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
রায়ের পর আয়েশা আক্তার জানান, তাঁর আরও ১১ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আতঙ্কে আছেন। হিটু শেখের স্বজনদের মাধ্যমে কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি। তাই প্রশাসনের কাছে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শিশু আছিয়াকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার পর দ্রুত বিচার শেষ করে বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল। এবার উচ্চ আদালতও সেই সাজা বহাল রাখায় মামলাটিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।
আ.দৈ/আরএস




















