লালমনিরহাট রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যা.এসএসসিতে ৫ পরীক্ষার্থীই ফেল
ডেস্ক রিপোর্ট:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়া লেখার মান এতো খারাপ কিভাবে হলো। সব পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। চলতি বছর ওই বিদ্যালয় থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছিল। আজ প্রকাশিত ফলাফলেেদেখা গেলো সবাই ফেল করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে হতাশা।
জানা যায়, বিদ্যালয়টি থেকে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পাঁচজনই অকৃতকার্য হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মদাতী ইউনিয়নে নারী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে এএম রথবাড়ী বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১১ সালে বিদ্যালয়টি প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং নিম্ন মাধ্যমিক থেকে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে সাতজন এমপিওভুক্ত এবং চারজন নন-এমপিও। এছাড়া চারটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশ ও নিয়মিত কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কাজে বেশি সময় দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
তাদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়মিত সময় দিতে না পারায় অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিতিও অনেকটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। বেতন নেওয়ার সময় এবং লোক দেখানো হাজিরার বাইরে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার প্রতিফলন এবারের এসএসসি ফলাফলে দেখা গেছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব বলেন, বিদ্যালয়ের নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হলেও উচ্চ বিদ্যালয় শাখা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে ওই শাখার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পাঠদানে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটও রয়েছে। এসব কারণে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুল আলম বলেন, এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আ. দৈ./কাশেম




















