হাসিনার ভাষাতেই কথা বলছে বিরোধীরা: মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ২৫টি চা-ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে আগের সরকারের সময়কার রাজনৈতিক ভাষারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
রোববার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, এরাও সেই ভাষাতেই কথা বলছে—করতে দেব না, চলতে দেব না, শেষ করতে দেব না।’
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে। এ কাজে সময় ও জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তেল-গ্যাসের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে দেশে একদিনের জন্যও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়নি। গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
দেশের জ্বালানি অনুসন্ধানে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস অনুসন্ধানে সুযোগ দেওয়া এবং মধ্যপাড়া ও বড়পুকুরিয়ার মতো খনি চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রংপুর ও উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মির্জা ফখরুল। তাঁর মতে, এ ধরনের শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং বেকারত্ব কমবে।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাল খনন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সম্মানী এবং অসচ্ছল খেলোয়াড়দের সহায়তার মতো কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, বর্তমানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে এবং গণমাধ্যমও কাজের সুযোগ পাচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রংপুর অঞ্চলের ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে ২৫টি চা-ঘরের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। মন্ত্রী বলেন, ছোট পরিসরের এমন উদ্যোগও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
আ.দৈ/আরএস





















