নালিতাবাড়ী থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, রাস্তাটি কি সংস্কার হবে ?
জায়েদ মাহমুদ রিজন,নালিতাবাড়ী(শেরপুর)

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনী বাজার থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কালাপাগলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, উঠে গেছে কার্পেটিং। কোথাও বেরিয়ে এসেছে পাথর, খোয়া ও বালি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন কার্যত দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। তখন কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো হলো নালিতাবাড়ী পৌরশহরে প্রবেশমুখের উচা ব্রিজ, শেহড়াতলী ও ভালুকাকুড়া এলাকা। এসব স্থানে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চালকদের জন্য সড়কটি যেন এক আতঙ্কের নাম।
স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে উচা ব্রিজ, শেহড়াতলী ও ভালুকাকুড়া এলাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থাকে।
অটোরিকশাচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙা সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। মেরামতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় আয় কমে গেছে।
শিক্ষার্থী আরাফ রহমান বলে, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাই। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ভয় নিয়েই চলতে হয়।
স্থানীয় শিক্ষক সামাউন ইসলাম বলেন, দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দ্রুত পুনর্নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে দুর্ঘটনা কমাতে কয়েকটি বড় গর্তে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোও এখন উঠে গেছে। এরপর আর কোনো ধরনের সংস্কারকাজ হয়নি।
দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে অচিরেই সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে এলজিইডির নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শরাফ উদ্দিন আজকের দৈনিককে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নালিতাবাড়ী বাজার থেকে নির্মাণাধীন সেতু পর্যন্ত অংশের জন্যও পৃথক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
আ. দৈ./কাশেম /জাকির




















