বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব পালন: শফিকুল হক মিলন
আবু সাঈদ রনি, রাজশাহী

বৃক্ষরোপণ শুধু কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
আজ শনিবার (০১ আগস্ট) সকাল ১০টায় পবা উপজেলার ভুগরইল খ্রিষ্টানপাড়ায় শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতনে পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুল হক মিলন বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিটি মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে পারলে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
বিদ্যানিকেতনের প্রশংসা করে এমপি বলেন, শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতন শিক্ষা, স্বাবলম্বিতা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে শিক্ষার সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে সমন্বয় ঘটেছে, তা দেশের জন্য অনুকরণীয়। সুমী মুর্মুর এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, আন্তরিকতা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান ও শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সুমী মুর্মু। নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভুগরইল গির্জার ফাদার পল পিটার কস্তা, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াদুদ হাসান পিন্টু, জেলা যুবদলের সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম ডনি ও গ্রাম্য প্রধান জুলিয়ান বিশ্বাস।
সভাপতির বক্তব্যে সুমী মুর্মু বলেন, আমাদের বিশ্বাস, একজন শিক্ষিত শিশুই একটি আলোকিত পরিবারের ভিত্তি। তাই মায়েদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করছি। নকশিকাঁথার প্রতিটি সেলাই আমাদের শিশুদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমরা বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি মানবিকতা, সম্প্রীতি ও পরিবেশ সচেতনতার শিক্ষাও দিতে চাই। সবার সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ আরও অনেক শিশুর জীবনে আলো ছড়িয়ে দিতে পারবে। এর আগে, আদিবাসী নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ওরাং নৃত্যের তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশে সংসদ সদস্যকে স্বাগত জানান প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতন একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর শিক্ষা উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সাঁওতাল নারীরা নকশিকাঁথা তৈরি করে যে আয় করেন, তার একটি অংশ বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যয় করা হয়। বর্তমানে এখানে আদিবাসী শিশুদের পাশাপাশি বাঙালি মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশুরাও একসঙ্গে পড়াশোনা করছে। শিক্ষা, স্বাবলম্বিতা ও সম্প্রীতির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম/ জাকির




















