রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্ত্রীর কিডনিতে বেঁচে থাকা নাদিম মন্ডলও মারা গেছেন
মনির মন্ডল,সাভার
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম  আপডেট: ০১.০৮.২০২৬ ৭:০৩ পিএম  (ভিজিট : ১৩২)
X

কেউ ভালোবাসার কথা বলেন ফুল দিয়ে, কেউ প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্ত আশুলিয়ার ববিতা আক্তার (ববি) ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছিলেন নিজের শরীরের একটি অঙ্গ দান করে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা স্বামী নাদিম মন্ডলকে বাঁচাতে তিনি নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন। সেই কিডনিই ফিরিয়ে দিয়েছিল নাদিমকে দ্বিতীয় জীবন। কিন্ত সেই দ্বিতীয় জীবনও শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ হলো না।

প্রায় দুই বছর আগে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ছিনতাইকারীদের হামলায় স্ত্রী ববিতাকে হারানোর পর থেকে নাদিম যেন শুধু বেঁচে ছিলেন—জীবনকে আর আগের মতো করে বাঁচতে পারেননি। একদিকে দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা, অন্যদিকে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর অসহনীয় শূন্যতা—দুটোই তাকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয়।

অবশেষে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নাদিম মন্ডল। পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

নাদিম ও ববিতার সংসারের গল্প একসময় আশুলিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়েছিল।চিকিৎসকরা যখন জানিয়ে দিয়েছিলেন, কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া নাদিমকে বাঁচানো সম্ভব নয়, তখন বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের একটি কিডনি দান করেন স্ত্রী ববিতা। সফল অস্ত্রোপচারের পর নতুন জীবন ফিরে পান নাদিম। পরিবারের মানুষ ভেবেছিলেন, এবার হয়তো দুঃসময় কেটে যাবে। কিন্ত নিয়তি যেন তাদের জন্য লিখে রেখেছিল এক ভিন্ন সমাপ্তি।

কিডনি দেওয়ার মাত্র ছয় মাস পর ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন ববিতা। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি মারা যান। যে মানুষটি নিজের শরীরের একটি অংশ দিয়ে স্বামীকে বাঁচিয়েছিলেন, সেই মানুষটিকেই আর বাঁচানো যায়নি।

ববিতার মৃত্যুর পর নাদিমের জীবন বদলে যায়। স্বজনদের ভাষ্য, তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিলেও মানসিকভাবে আর কখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। স্ত্রীর স্মৃতি, শারীরিক দুর্বলতা এবং একের পর এক চিকিৎসা-এই ছিল তার জীবনের শেষ দুই বছরের গল্প।

প্রতিবেশীরা বলেন, নাদিমের মুখে প্রায়ই শোনা যেত স্ত্রীর কথা। কেউ খোঁজ নিতে এলে তিনি বলতেন, "ও না থাকলে আমি তো আগেই চলে যেতাম।" সেই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে ছিল তার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় সত্য।

স্থানীয়দের মতে, ববিতা ও নাদিমের জীবন কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি আত্মত্যাগ, ভালোবাসা এবং জীবনের অনিশ্চয়তার এক মর্মস্পর্শী দলিল। যে নারী নিজের একটি কিডনি দিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় জীবন দিয়েছিলেন, সেই জীবনও শেষ পর্যন্ত বেশিদিন টিকল না।

আজ তাদের দুজনই নেই। কিন্ত তাদের গল্প রয়ে গেছে-ভালোবাসার সংজ্ঞা নতুন করে শেখানো এক দম্পতির গল্প হিসেবে। এমন এক গল্প, যেখানে একজন স্ত্রী নিজের জীবন বাজি রেখে স্বামীকে বাঁচিয়েছিলেন, আর সেই স্বামী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বয়ে বেড়িয়েছেন সেই ভালোবাসার স্মৃতি।

মানুষ হয়তো একদিন তাদের নাম ভুলে যাবে। কিন্ত একজন স্ত্রীর নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ আর একজন স্বামীর সেই ভালোবাসা নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বেঁচে থাকার গল্প-সময় যতই পেরিয়ে যাক, ততই আরও গভীরভাবে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

আ. দৈ./কাশেম/ জাকির


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝