ময়মনসিংহে ধোবাউড়ায় সড়কের বেহাল দশা,দুর্ভোগে জনজীবন
আনিসুর রহমান, ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ)

সকালের আলো ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গে ধোবাউড়ার বিভিন্ন সড়কে শুরু হয় মানুষের কর্মব্যস্ততা। কেউ স্কুল-কলেজে, কেউ বাজারে, কেউ চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ কৃষিপণ্য নিয়ে ছুটে চলেন। কিন্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাদের মোকাবিলা করতে হয় ভাঙাচোরা সড়ক, অসংখ্য খানাখন্দ।
প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ যেন ধোবাউড়াবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। বেহাল গ্রাম্য সড়কে থমকে আছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। কাঁদামাটি ও ভাঙ্গাচোরা পথে মানুষের সংগ্রাম নিত্যদিনের। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক কাঁদায় ছেয়ে গেছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ সড়ক কাঁদাময় হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
গ্রাম্য কাঁদা রাস্থা গুলো বেহাল অবস্থার কারণে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে দেরি হয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছাতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়।
এছাড়াও পাকা সড়ক গুলোও সংস্কারের অভাবে গর্ত এবং খানাখন্দে পরিনত হচ্ছে। উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধোবাউড়া চারুয়ায়াপাড়া সড়ক প্রায় ১৫ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও পিচ উঠে বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার ইট-পাথর বেরিয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে ডুবে যায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট আরো প্রকট হয়ে ওঠে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধোবাউড়ায় মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ৫৩৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে উপজেলা সড়ক ১০৬ কিলোমিটার, যার পাকা ৭০ কিলোমিটার; ইউনিয়ন সড়ক ১০০ কিলোমিটার, যার পাকা ৩৭ কিলোমিটার; এবং গ্রামীণ (ভিলেজ) সড়ক ৩৩২ কিলোমিটার, যার পাকা মাত্র ৯ কিলোমিটার। মোট ৫৩৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ১১৭ কিলোমিটার পাকা, যা মোট সড়কের ২১.৮ শতাংশ পাকা। বাকি ৭৮.২ শতাংশ সড়ক এখনও কাঁচা বা অনুন্নত, যা একটি সীমান্তবর্তী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।
কাশিনাথপুর গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের কাশিনাথপুর বাজার থেকে কৃষ্ণপুর স্কুল পর্যন্ত রাস্থাটি কাঁদা মাটিতে খুবই বেহাল অবস্থা, ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। বেতগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কগুলোর অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী ইন্দো ভূষণ বিশ্বাস বলেন, আমরা গ্রামীণ রাস্থা গুলোর তালিকা করে মন্ত্রনালয়ে পাঠাচ্ছি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ২৭টি নতুন সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এছাড়া গ্রামীণ সড়কগুলোকে টেকসই করতে দুই শতাধিক কালভার্ট দরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।
আ. দৈ./কাশেম/জাকির




















