রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহনকৃত জমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
সবুজ মিয়া, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম  আপডেট: ৩০.০৭.২০২৬ ৬:৩৯ পিএম  (ভিজিট : ৩৭)
X

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার আওড়াখালী বাজারসংলগ্ন কাউলিতা গ্রামে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির অধিগ্রহণকৃত জমি দখল করে পাকা স্থাপনা ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তারা কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে গ্যাসলাইন রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি মেরামত ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির অধিগ্রহণকৃত বা ক্রয়কৃত জমিতে জোরপূর্বক কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি বা কোম্পানির মালিকানাধীন জমিতে অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

তিতাস গ্যাসের লাইনম্যান মোস্তাফা বলেন, গ্যাস পাইপলাইনের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। আওড়াখালী বাজারসংলগ্ন কাউলিতা গ্রামে তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আমরা জেনেছি।

তিনি বলেন, তিতাস গ্যাস গাজীপুর অপারেশন ডিভিশনের ম্যানেজার সাইফুজ্জামান ভূঁইয়ার নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেছি। এরপরও তারা অজ্ঞাত কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানতে পেরেছি।

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। গ্যাস পাইপলাইনের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি ফাঁকা রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভবিষ্যতে পাইপলাইনে কোনো ত্রুটি বা জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দ্রুত মেরামতকাজ পরিচালনার জন্য সেখানে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা না থাকে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস গাজীপুর অপারেশন ডিভিশনের ম্যানেজার সাইফুজ্জামান ভূঁইয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমরা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে নোটিশ পাঠিয়েছি। একই সঙ্গে বিষয়টি অবহিত করে সংশ্লিষ্ট থানায়ও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। জমিটি তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত হলেও সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব শুধু তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নয়; এটি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও সম্মিলিত দায়িত্ব।

অভিযুক্ত ছালেকা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ২০ ফুট জমি ছেড়ে দিয়ে আমার নিজস্ব সম্পত্তির ভেতরে কাজ করছি। আমার জমি যেন আমার দখলে থাকে, সে জন্যই সিমেন্টের খুঁটি বসিয়ে রেখেছি। আমার জমি আমি অন্য কাউকে দখল করতে দেব না।

সরেজমিনে অভিযুক্ত মো. মোস্তফা খানের বাড়িতে গিয়ে এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে বাড়িতে অবস্থানরত ভাড়াটিয়ারা জানান, এ বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। তাদের ভাষ্য, বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলেন।

পরে মো. মোস্তফা খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি বাদ দিয়েই নিজস্ব জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তাঁর দাবি, যতটুকু নির্মাণকাজ হয়েছে, সবই তাঁর নিজের জমির মধ্যে। তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন বা তাদের অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর তাঁর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি।

এদিকে কাউলিতা গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান, জহিরুল দর্জি ও মোকসেদ আকন্দ জানান, তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত জমিতে একই গ্রামের মৃত গনি খানের ছেলে মো. মোস্তফা খান পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এছাড়া মৃত রশিদ ভূঁইয়ার স্ত্রী ছালেকা খাতুন নতুন করে সিমেন্টের খুঁটি ও টিন দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করছেন।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, তিতাস গ্যাসের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা মৌখিকভাবে নির্মাণকাজে বাধা দিলেও অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্যাসলাইনের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে অধিগ্রহণকৃত জমি উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাসলাইনে কোনো ত্রুটি বা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় মেরামত ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবাধ চলাচলের সুযোগ থাকতে হয়। কিন্ত এভাবে একের পর এক অধিগ্রহণকৃত জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থ ও গ্যাসলাইন নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।

আ. দৈ./কাশেম./জাকির


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝