রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তিস্তার ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা দাবি, পাউবো কার্যালয় ঘেরাও
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ পিএম   (ভিজিট : ৪৫)
X

তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। 

আজ রোববার সকালে ‘তিস্তা নদীপাড়ের এলাকাবাসীর’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার কয়েকটি চর এলাকার দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

আজ সকালে গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চর এলাকার মানুষ রংপুর পাউবো কার্যালয়ের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর তিস্তার ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমি ও শত শত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হলেও স্থায়ী নদীশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে কিছু জিওব্যাগ দেওয়া হলেও তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। জিওব্যাগে বালু ভরাটের ব্যয়ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, খেলাফত মজলিসের গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মমিনুর ইসলাম এবং ভাঙনকবলিত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা।

আল মামুন বলেন, ‘তিস্তার ভাঙনে প্রতিবছর মানুষ ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও নতুন করে বসত গড়তে পারেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায় না। সাময়িক কিছু জিওব্যাগ দিয়ে দায় শেষ করা হচ্ছে।’ দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী নদীশাসনের কাজ শুরুর দাবি জানান তিনি।

আল মামুন আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, তিস্তার ভাঙনে তাঁর কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বসতভিটাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আর সাময়িক ব্যবস্থা চাই না। স্থায়ী নদীশাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা না হলে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও তিস্তা কেড়ে নেবে।’

সমাবেশ থেকে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জিওব্যাগ সরবরাহ, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, কোথাও ভাঙন দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ সরবরাহ করা হয়। এটি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এসব কাজ পরিচালিত হয়।

রবিউল ইসলাম আরও বলেন, ‘স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুমোদন এবং ঠিকাদার নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

আ.দৈ/আরএস






Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝