জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জামায়াতে ইসলামীর ১০ নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক মো:আজগর আলীকে মামলা করার ভয় দেখানো ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৪ জুলাই আজকের দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ফটিকছড়িতে জামায়াতের ১০ নেতার নামে মামলা, ওই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফটিকছড়ির একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মানুষকে আটকে রাখা, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এ সংবাদটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক মো:আজগর আলী।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফটিকছড়ির ‘আইডিয়া প্রিন্ট’-এর স্বত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান নুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মাস্টার নাজিম উদ্দীন সিকদার ও বায়েজিদ হাসান মুরাদসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আক্তারুজ্জামান নুরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মানুষকে আটকে রাখা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, এসব বৈঠকে আক্তারুজ্জামান নুর একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান।
সাংবাদিক মো:আজগর আলীর দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো মনগড়া বা অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্য এবং সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রকাশিত সংবাদে কারও বক্তব্য নিয়ে আপত্তি বা তথ্যগত ভুল থাকলে প্রচলিত আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবাদ, ব্যাখ্যা বা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে মামলা করার ভয় দেখানো ও ভয়ভীতি প্রদর্শন স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।’
মো:আজগর আলী বলেন, বিষয়টি তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক মহলের কয়েকজনের ভাষ্য, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার আইনি ও নীতিগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত।
আ. দৈ./কাশেম/জাকির




















