নালিতাবাড়ীতে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে যৌথ সভা
জায়েদ মাহমুদ রিজন, নালিতাবাড়ী (শেরপুর)

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় দিন দিন বেড়ে চলেছে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব। বন্য হাতির আক্রমণে কৃষকের ফসল, বসতঘর ও বিভিন্ন সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে হাতির মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমন বাস্তবতায় মানুষ ও হাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নালিতাবাড়ীতে এক যৌথ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার মধুটিলা ইউনিয়নের বাতকুচি এলাকায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং জনউদ্যোগ ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)-এর সহযোগিতায় এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনসার আলী বলেন, গারো পাহাড়ে হাতির জন্য উপযোগী খাদ্যসমৃদ্ধ বাগান গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা লোকালয়ে এসে মানুষের ফসলের ওপর নির্ভর না করে। হাতিও বাঁচুক, মানুষও নিরাপদে বসবাস করুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
স্বেচ্ছাসেবক ইলিয়াস আলী বলেন, হাতির তাণ্ডবে অনেক কৃষক কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ শেরপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। বক্তব্য দেন শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জ্যোতি পোদ্দার, স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম, প্রকৃতিপ্রেমী দেবদাস চন্দ বাবু, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য মো. আসমত আলী, ইলিয়াস খানসহ অন্যান্য অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমাতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি, হাতির নিরাপদ চলাচলের পথ সংরক্ষণ, খাদ্যের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আ. দৈ./কাশেম/জাকির




















