রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কমিটিতে জায়গা না পেয়ে মসজিদে তালা মারার হুমকি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম   (ভিজিট : ৪১)
X

গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নং ওয়ার্ডের গুটিয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটিতে স্থান না পেয়ে মসজিদে তালা মারার হুমকি দিয়েছেন এক বিএনপি নেতা। অভিযুক্তের নাম এডভোকেট জালাল খান (সারোয়ার) (৩৩)। বর্তমানে কোনো পদে না থাকলেও গাজীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। মূলত ৫ আগস্টের পর থেকেই সে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করছে। সেইসঙ্গে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫২ নং ওয়ার্ডের একজন স্বঘোষিত কাউন্সিলর প্রার্থী। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই, শুক্রবার রাতে মসজিদের ভেতর নতুন কমিটি গঠনের উদ্দেশে চলমান বৈঠকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে মসজিদে তালা মারার হুমকি দেন জালাল খান। ঘটনার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্ক ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে নতুন মসজিদ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ঝুলে যাওয়ায় মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। ওই ঘটনায় এরইমধ্যে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। 

জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, সে (জালাল) একটা দুষ্ট প্রকৃতির লোক। মসজিদ পবিত্র সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মসজিদের সাথে  মুসলমানদের আবেগের সম্পর্ক। পদের জন্য সেখানে তালা মারার হুমকি দেওয়া একটা অশুভ লক্ষণ। এ ধরনের অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সামাজিক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে জালালকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। 

জানা যায়, গত ২৫ বছর ধরে দায়িত্বরত মসজিদ কমিটি নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ না থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে জালাল নিজেই নিজেকে সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করে কমিটির সংস্কার দাবি করতে শুরু করেন। মসজিদ কমিটি নিয়ে  জালালের অব্যাহত হস্তক্ষেপে বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদস্বরূপ সম্প্রতি 'গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ' এর পুরাতন কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন মসজিদ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। নিয়মিত নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের সর্বসম্মতিক্রমে গুটিয়া গ্রামের পাচটি পাড়ার মোট ৫১ জন সম্মানিত মুরুব্বির সমন্বয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় এই ৫১ জন সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় নামের তালিকায় জালালের নাম না থাকলেও এ নিয়ে কেউ কোনো আপত্তি জানায়নি। পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী ওইদিন রাতেই এশার নামাজের পর বৈঠকে বসেন কমিটির সদস্যরা। 

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই উত্তেজিত ভঙ্গিতে আচমকা জালাল সেখানে উপস্থিত হয়। তার অনুমতি ছাড়া বৈঠকে বসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি বিধায় এই কমিটির নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না বলে ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসির হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো কমিটি গঠন করা যাবে না বলেও হমকি দেয়। 

বৈঠকে উপস্থিত জালালের পিতা আমজাদ হোসেন (হক সাহেব) তাকে শান্ত করতে গিয়েও ব্যর্থ হন। জালাল আহ্বায়ক কমিটির হাতে থাকা কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে হুমকি দেয় যে, তার কথা মানা না হলে মসজিদে তালা মেরে দেওয়া হবে। 

এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আহ্বায়ক কমিটির সভা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এদিকে, মসজিদে গোলমালের শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। জালালের এমন আচরণে তারা সম্মিলিতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

বৈঠকে উপস্থিত থাকা সদস্য গুটিয়া পূর্বপাড়ার হাজী মো এমরান সরকার বলেন, মসজিদ পরিচালনার বিধিমালা অনুযায়ী- মসজিদ কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা হলো সেই ব্যক্তিকে পাঞ্জেগানা নামাজী হতে হবে। গ্রামের মধ্যে যারা যারা এই শর্ত পূরণ করেন দল মত নির্বিশেষে তাদেরকেই আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু জালাল খান তার রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। 

আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য যিনি একইসঙ্গে থানা বিএনপির নেতা সেই ইউনুছ আলী বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষ অভিযোগ দিতে শুরু করে। দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকার মানুষদের হয়রানি করাই হলো জালালের রাজনীতি। তার মতো নেতাদের কারনেই বিএনপির বদনাম হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বিএনপির রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। 

গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি হাজী তাইজুল ইসলাম বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত। এসব ঘটনায় সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা ও সহাবস্থান ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, দিন যত যাচ্ছে এই সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। সুষ্ঠু সমাধানের অভাবে মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, জালাল খানের বিরুদ্ধে এর আগেও স্থানীয় গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ পাওয়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ আছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. খায়রুন্নেছা বলেন, স্কুলের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ পেতে যে যে যোগ্যতা প্রয়োজন হয় তা জালালের ছিলো না। তারপরও ৫ আগস্টের পর তিনি জোরপূর্বকভাবে সভাপতি পদ নেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ জানাই। এতে ক্ষেপে গিয়ে জালাল আমাকে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অপবাদ দেয়। 

তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি আত্মসাৎ করার মিথ্যা অভিযোগও তোলে জালাল। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি আত্মসাৎ করার কোনো প্রশ্নই আসেনা কারণ উপবৃত্তির টাকা সরাসরি অভিভাবকদের মোবাইল ব্যাংকে ট্রান্সফার করা হয়। তবে জানতে চাইলে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত জালাল।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝