সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বান্দরবানে সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
নুরুল কবির, বান্দরবান
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:০১ পিএম   (ভিজিট : ২৯)
X

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে বান্দরবান পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া ও সুয়ালক এলাকায় পাহাড়ধসে অন্তত ৬টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পৌরসভার আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ, ইসলামপুর, বালাঘাটা, নদীতীরবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া থানচি, আলীকদম, লামা ও রুমা উপজেলার নতুন নতুন নিচু এলাকায়ও নদীর পানি প্রবেশ করায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

প্লাবিত এলাকার অনেক মানুষ প্রশাসন ঘোষিত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের মধ্যে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সাতটি উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। 
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে, যা পাহাড়ি জনপদে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মাইকিং করা হচ্ছে।

 জেলার সাত উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্কুল-কলেজ পরিষ্কার করে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরা মনি জানান, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া ও সুয়ালক এলাকায় এ পর্যন্ত ৭টি বসতঘর পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে নাইক্ষংছড়ি উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান- বুধবার বিকালে নাইক্ষংছড়ি উপজেলা সীমান্তবতী এলাকা তুমরুতে আশ্রিত ৭০পরিবারের মাঝে শোকনো খাবার বিতরন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার বিকালে ভারি বর্ষনের কারণে থানচি উপজেলার বলিপাড়া বাগান পাড়া এলাকায় রাস্তায় পানি  উঠায় কারনে  আপাততে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়ায় পার্শ্ববর্তী পাহাড় ধসে নিপুন বড়ুয়া, রন বড়ুয়া, অঞ্জনা বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়াসহ কয়েকটি পরিবারের একটি পাকা ঘরসহ মোট পাঁচটি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় এবং আরও কয়েকটি ঘরের বড় অংশ মাটিচাপা পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, সন্ধ্যার দিকে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফলে রাতে পাহাড়ধসের সময় ঘরে কেউ না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ইউএনও মারুফা সুলতানা খান হীরা মনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

আ. দৈ./কাশেম/ জাকির


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝