ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সকে হেনস্তার অভিযোগ, কর্মবিরতি
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে নার্স ও কর্মচারীরা প্রতীকী তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন। তবে জরুরি বিভাগের সেবা স্বাভাবিক রাখা হয়, যাতে রোগীদের ভোগান্তি না হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনরত একজন নারী স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি নয়, পুরো নার্সিং পেশার প্রতি অবমাননা। ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে শিশু ওয়ার্ড থেকে এক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর সময় হাসপাতালের প্রধান ফটক খোলা হয়। এ সময় ডন হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তি কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে অনুমতি ছাড়া মহিলা ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা হাসপাতালের ভেতরে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং কর্তব্যরত স্টাফ নার্স মাহফুজা আক্তারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
এক পর্যায়ে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং চুল ধরে রাস্তায় ফেলে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। পরে ঘটনার ভিডিওর একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী নার্সের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর প্রচারণা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মানববন্ধনে নার্সিং কর্মকর্তা পম্পি দেবী বলেন, কর্মসূচি শেষে ভুক্তভোগী নার্স মাহফুজা আক্তারের স্বামীকেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। ডন হুমায়ুন, ডেভিড মনছুরসহ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয় এবং তারা কাজে ফিরে যান।
আ. দৈ./কাশেম/ জাকির




















