রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেট-বাঁশের বেড়া ঘিরে কপোতাক্ষ কলেজে বিতর্ক
ইউনুস আলী, কয়রা (খুলনা)
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম   (ভিজিট : ৩৭)
X

খুলনার কয়রার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কপোতাক্ষ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে লোহার গেটের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে নেটবাঁশের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহনকারী একটি কলেজের প্রধান প্রবেশপথের এমন চিত্র কেন?

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের প্রধান ফটকের নিচের অংশ নেটবাঁশ দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে দেখলে এটি কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথের চেয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনার অস্থায়ী বেড়ার মতো মনে হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কলেজের একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের এমন অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের ভাষায়, কলেজটিকে যেন ছাগল-গরুর খোঁয়াড় বানিয়ে রাখা হয়েছে।” তারা দ্রুত স্থায়ী ও দৃষ্টিনন্দন ফটক নির্মাণের দাবি জানান।

কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল বলেন, একজন অযোগ্য ও অথর্ব ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে। যার ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিজেও একজন সাবেক অধ্যাপক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। তাদের চোখের সামনে একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি বিষয়টি দেখেছি। কীভাবে প্রতিকার করা যায়, সেটি আমরা দেখছি।

তবে নেটবাঁশের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোল্লা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমার সঙ্গে আলোচনা না করেই তারা এটি করেছে। পরে দেখে আমি নেটবাঁশের বেড়া অপসারণ করতে বলেছি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজের দৃশ্যমান উন্নয়ন না হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওলিউল্লাহ দাবি করেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোল্লা আবু বকর সিদ্দিক এবং গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অস্থায়ীভাবে নেটবাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির বক্তব্যের কথা জানানো হলে তিনি হেসে বলেন, তাহলে তো দুজনের কথা দুই রকম হয়ে গেল।

কলেজের আর্থিক বিষয়ে তিনি জানান, কলেজের ১২টি দোকান থেকে মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা ভাড়া আসে। এই অর্থ কলেজের বিভিন্ন ফি, নবায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ে খরচ হয়। প্রধান ফটক সংস্কার না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের গেটটি সংস্কার করতে ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হতো। কিন্তু সবাই একমত না হওয়ায় সেটি করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে কলেজের প্রধান ফটক নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অ্যাডহক কমিটির সভাপতির বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা গেছে। একজন বলছেন এটি কমিটির সিদ্ধান্তে হয়েছে, অন্যজন বলছেন তাকে না জানিয়েই করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ও মানসম্মত প্রধান ফটক নির্মাণ এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা।

আ. দৈ./কাশেম/ জাকির


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝