সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাঁচ নদীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম, আশ্রয়হীন ৫০০ পরিবার
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৪৩)
X

বর্ষার শুরুতেই আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার প্রধান পাঁচটি নদ-নদী—ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও কালজানী নদীতে একযোগে ভাঙনের ফলে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে ইতোমধ্যে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

​পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে মোট ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। তাই আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাত জেগে ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন। ​স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ:

​দুধকুমার নদী: এই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার খাড়ুয়ারপাড় ও বানিয়াপাড়া; নাগেশ্বরীর বেপারীর চর, সাপখাওয়া, মাঝিপাড়া, কুটিরচর, মণ্ডলপাড়া, বলরামপুর ও দামালগ্রাম এলাকায় প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

​ধরলা নদী: সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সাটকালুয়া ও জগমনের চর, ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডপ এবং বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদ: সদর উপজেলার গোয়াইলপরী ও পার্বতীপুর; নাগেশ্বরীর ঝাউকুটি, পাগলার বাজার ও বালারহাট; উলিপুরের দইখাওয়ার চর, রসুলপুর ও জলঙ্গারকুটি; চিলমারীর কাচকোল; রৌমারীর সোনাপুর, গেন্দার আলগা, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার সাজাই, পাইকানটারী ও বল্লবপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন চলছে।

তিস্তা নদী: রাজারহাট উপজেলার হাঁসারপাড়, রামহরি, চর বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার হোকডাঙ্গা ও গোড়াইপিয়ার এলাকায় নদীর আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে।

কালজানী নদী: ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা ও বউবাজার এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এছাড়া সদরের সারোডোব ও ভূরুঙ্গামারীর পাইকডাঙ্গাসহ বেশ কিছু নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার সাটকালুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিদিন নদী কয়েক হাত করে এগিয়ে আসছে। ঘরের টিন খুলে রেখেছি। কখন বাড়িটা নদীতে চলে যায়, সেই ভয়ে পরিবার নিয়ে রাত জেগে থাকি।

উলিপুরের গোড়াইপিয়ার এলাকার কৃষক নুর ইসলাম বলেন, জমি নদীতে গেছে, এখন বাড়িও যাবে। আমাদের মতো মানুষের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও জরুরি বরাদ্দের প্রয়োজন।

কুড়িগ্রামের চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।

​জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা হিসেবে জেলায় নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭৫ টন চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার (যার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ধরণের মশলা রয়েছে) বরাদ্দ করা হয়েছে।

​কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।

আ.দৈ/আরএস




Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝