আফরা ইভনাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল জানালেন আলভী
নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের আলোচিত ও সমালোচিত ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী এবার তার স্ত্রী আফরা ইভনাত ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শুনানির সময় আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, স্ত্রী ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে যেসব আলোচনা ও ছবি ছড়ানো হয়েছে, তার কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।
আজ বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুণী মীরের আদালতে শুনানিকালে আলভী বলেন, তিনি বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে আছেন যেখানে কীভাবে শোক প্রকাশ করবেন সেটিও বুঝে উঠতে পারছেন না। তার ভাষ্য, তিনি ও ইকরা দুজনেই পরিণত বয়সের মানুষ ছিলেন এবং প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। সংসারে অভিমান, খুনসুটি কিংবা ঝগড়া থাকলেও তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।
আদালতে আলভী আরও বলেন, ইকরার মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির হাতের মেহেদিতে ‘আলভী’ লেখা রয়েছে বলে যে ছবি ছড়ানো হয়েছে, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা। তার মতে, মূল ছবিতে এমন কোনো লেখা ছিল না।
তিনি বলেন, মিডিয়ায় কাজ করার কারণে তার যেমন শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে, তেমনি কিছু মানুষ তাকে অপছন্দও করেন। তাদের একটি অংশই বিভিন্ন তথ্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নেপাল সফর প্রসঙ্গেও আদালতে কথা বলেন আলভী। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কোনো উদযাপনের জন্য নয়, বরং ছয়টি নাটকের শুটিংয়ের কাজে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ওই সফরে তার সঙ্গে আরও অনেক সহকর্মী ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জামিনের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে আলভী আদালতকে বলেন, তার সন্তান এরই মধ্যে মাকে হারিয়েছে। এখন সন্তানের পাশে বাবার উপস্থিতি প্রয়োজন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্যও তিনি আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে আফরা ইভনাত ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। এ মামলায় এর আগে যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
আ. দৈ./কাশেম




















