রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
ভোলায় কোটি টাকার ইলিশ জব্দের পর গায়েব করেছে কোস্ট গার্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ পিএম   (ভিজিট : ৭৪)
X

ভোলার চরফ্যাশনে মাছ ব্যবসায়ীদের কেনা কোটি টাকার ইলিশ মাছ জব্দ ও গায়েবের অভিযোগ ভোলা কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে পুরো ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আজ সোমবার (২২ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত ১০ মাছ ব্যবসায়ীর করা রিট আবেদনটি শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

উচ্চ আদালত বিবাদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এই নির্দেশনা জারি করেছেন। এছাড়া   কেনো সরকারের অনুমতি ছাড়া বেআইনীভাবে কোটি টাকার ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে ইলিশ শাছ জব্দ তালিকা ছাড়া  নিজেরা গায়েব করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। এইমর্মে সন্তোষজনক জবাব দিতে সংশ্লিষ্টদেরকে বলা হয়েছে। 

রিটকারীদের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, অতিরিক্ত জেলা জজের নিচে নন এমন একজন বিচারক দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত।

তিনি বলেন, 'ভোলায় জব্দ ইলিশ গায়েব' শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলার চরফ্যাশন থেকে ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ক্রয় করা কোটি টাকার ইলিশ ঢাকায় পরিবহনের পথে জব্দ করা হয়।

পরে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কিছু মাছ বিতরণের নামে বেশিরভাগ মাছ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, জব্দের পর ওই মাছের একটি অংশ বরিশালে নিয়ে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। জেলা শহরের কালিনাথ বাজার এলাকায় ৩টি ট্রাকে ১৫৫টি ককসিটে বোঝাই বড় আকারের ইলিশ মাছ জব্দ করে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন টিম।

ওই মাছের ক্রয়মূল্য ছিল ৯৪ লাখ ২ হাজার ৭৮৪ টাকা। ক্ষতিপূরণসহ হয়রানির বিচার দাবি করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন সামরাজ মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির পক্ষে মো. তারেক আজিজ পাটোয়ারী।

জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে ইলিশ মাছ সাগরের নাকি নদীর-এটি বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করতে পারবেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মৎস্য বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন জানান, ইলিশ মাছ সাগরের নাকি নদীর তা স্বাভাবিকভাবে আলাদা করা যায় না। গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে উপকূলে আনার পথে জব্দ হলে তা সাগরের মাছ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে আলোচিত ইলিশগুলো জেলা শহরের কালিনাথ বাজার এলাকায় ট্রাকে পরিবহনের সময় জব্দ করা হয়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিল। স্থলপথ থেকে এসব মাছকে সাগরের মাছ হিসেবে জব্দ করা মৎস্য আইনের পরিপন্থি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে গভীর সাগরে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সহ সামুদ্রিক মাছ আহরণ বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। কোস্ট গার্ড ওই ইলিশকে সামুদ্রিক মাছ উল্লেখ করে জব্দ করে। তবে মাছ ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, এসব মাছ নদী ও মোহনা থেকে ধরা হয়েছে। 

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভোলা কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ হাজার ১৪০ কেজি সামুদ্রিক ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝