রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পীর ‘সেজে’ কবরস্থানে আস্তানা গেড়ে আত্মগোপনের চেষ্টা, গ্রেপ্তার আসামি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম   (ভিজিট : ৭৭)
X

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বসবাস গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থান এলাকার জঙ্গলে আস্তানা গড়ে তুলেছেন গয়াছ মিয়া (৩৫) নামে এক হত্যা মামলার প্রধান আসামি। মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে লোহার রড- নিজেকে ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয় দিচ্ছেন গয়াছ মিয়া। 

স্থানীয়রা বলছেন, এই আস্তানা ঘিরে চালানো হয় মাদকসেবন ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড। জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া প্রায় এক বছর ধরে গ্রামের শতবর্ষী পঞ্চায়েতি কবরস্থানের একটি বড় গাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি দোতলা ঘরে বসবাস করছেন। মাথায় সাদা পাগড়ি ও হাতে লোহার রড নিয়ে চলাফেরা করেন। নিজেকে পরিচয় দেন একজন ‘পীর’ হিসেবে।

২০২০ সালের ৪ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করেন গয়াছ মিয়া। এতে জাকির হোসেন নামে একজন নিহত হন। গুরুতর আহত হন জিহান মিয়া নামে আরেকজন। পরে পুলিশ গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয়ে কবরস্থানের নির্জন জঙ্গলে তিনি আস্তানা গড়ে তুলেছেন। সেখানে গাঁজা-মদের আসরসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

গত ১৭ জুন এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে গয়াছ মিয়ার আস্তানা উচ্ছেদ, কবরস্থান রক্ষা এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।

বাজিতপুর গ্রামের এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে, গয়াছ মিয়া কবরস্থানে আস্তানা গড়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করেন। তার ভয়ে এলাকার চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করে।

সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে পরিচিত গয়াছ মিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কবরস্থান এলাকার জঙ্গলে বসবাস শুরু করেন। তার হাতে প্রায়ই লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা ওই পথ দিয়ে যাতায়াতে ভয় পাচ্ছে।

বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন আলম অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আনাগোনা দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, পবিত্র কবরস্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গয়াছ মিয়া। তার দাবি, স্বপ্নে এক অলি-আউলিয়ার নির্দেশ পেয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি কোনো মাদক বা জুয়ার আসর পরিচালনা করেন না। বরং আধ্যাত্মিক সাধনায় সময় কাটান এবং মানুষের উপকারের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, কিছু লোক তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে এবং ভিটেমাটি বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে আশ্রয়হীন হয়ে তিনি কবরস্থানের জঙ্গলে বসবাস করছেন।

গয়াছ মিয়ার ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া জাকির হোসেনের বাবা রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গয়াছ আমার ছেলেকে খুন করেছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না কীভাবে মাত্র দুই বছর পরই সে জামিনে বের হয়ে গেল? এখন এলাকায় আমাকে দেখলেই সে নানা হুমকি-ধমকি দেয়, অকথ্য গালমন্দ করে। আমার এক ছেলে খুন হয়েছে, তাই ভয়ে এখন আর কিছু করতে চাই না। ছোট ছেলে গ্রিস থেকে কিছুদিন আগে বাড়িতে এসেছে, তাকেও সে হুমকি দিয়েছে।

গয়াছ মিয়ার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং জমি দখলের দাবির বিষয়ে তিনি জানান, তার ঘরবাড়িতে কেউ আগুন দেয়নি এবং জায়গা-জমিও কেউ জোরপূর্বক বিক্রি করেনি। দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু লোকজন গয়াছ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত ও অন্যান্য অভিযোগ করেছেন। আবার অনেকে বলছেন তিনি বন বিভাগের জায়গায় আছেন। জায়গার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখবে। আর মাদকের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি অনেক আগের ঘটনা। খোঁজখবর না নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে না। এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ সাংবাদিকদের বলেন, থানার ওসি এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আ.দৈ/আরএস




Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝