জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলায় আলোচনার ঝড়, দুঃখপ্রকাশ জামায়াত এমপির
নীলফামারী প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদে জীবিত বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এমপি ও সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল মুনতাকিম। তিনি বলেছেন, সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসলে তাঁর দাদা ও চাচার কথা বলতে চেয়েছিলেন।
মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ‘আমার বাবা বেঁচে আছেন। সংসদ অধিবেশনে আসলে বলতে চেয়েছিলাম—মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন আমার দাদা ও চাচা। অধিবেশন চলাকালে আমি অসুস্থ ছিলাম। সেই সময় মাথা প্রচণ্ড ব্যথা করছিল। তাই কী বলতে কী বলেছি, তা বুঝতে পারছি না। মুখ ফসকে বের হয়েছে। এ জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
এর আগে গত রোববার সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ‘আমার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।’ বক্তব্যে তাঁর পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবিও করেন তিনি।
সংসদ অধিবেশনে এমপি মুনতাকিম আরও বলেন, ‘আমার আব্বারা ৭ ভাই—৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন—১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’
এদিকে তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় দেখা যায়, এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে। অর্থাৎ, মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তাঁর বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন।
বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ দাবি করা জামায়াত এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে, বেঁচে আছেন বাবাওবাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ দাবি করা জামায়াত এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে, বেঁচে আছেন বাবাও
১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া নিয়ে সৈয়দপুরসহ সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁর বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী ও মা মোসলমান বেগম দুজনই জীবিত আছেন। তাঁরা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করেন।
আ.দৈ/আরএস




















