পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ভোগান্তির শঙ্কা
সাজিদুর রাসেল , মানিকগঞ্জ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা দড়জায় কড়া নাড়ছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট। ঘরমুখো মানুষ ও কোরবানীর পশু নৌপথ পারাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরি মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
নদী পথ পারাপারে সংশ্লিষ্ট ঘাট পয়েন্টের পন্টুনসহ এ্যাপরোচ সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্নসহ ফেরি মেরামত,পন্টুনের রং এবং অতিরিক্ত নৌযান প্রস্তুত করা হয়েছে। অপর দিকে পন্টুনে ভাঙ্গন রোধে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃকের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হয় তবুও যানবাহনের চালকদের ভিতরে ভাঙ্গান আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, মে মাসের চলতি সপ্তাহে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে, এই সময়টাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল থেকে ট্রাক যোগে হাজারো কোরবানির পশু রাজধানীর অভিমুখে প্রবেশ করবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে পার হয়ে। ঠিক একই ভাবে কর্মমুখী মানুষ প্রিয় জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে ফিরবে এই নৌরুট দিয়ে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে এরি মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ঘাট মেরামতসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গত বছরের পদ্মার ভাঙ্গনে একটি লঞ্চ ঘাট সম্পূর্ণ ভাবে বিলীন হয় এবং পাশাপাশি একটি ফেরি ঘাট মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাকি দুটি ঘাট দিয়ে কোনমতে যানবাহন পারাপার করা হয়।
তবে এবারে তিনটি পন্টুন দিয়েই সমান তালে যানবাহন পারাপার হতে পারবে এবং অস্থায়ী ভাবে একটি লঞ্চঘাটের-ও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে পদ্মার ভাঙ্গনের মুখে পড়তে না হয় ঘাট, সে জন্য এরি মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। পাটুরিয়া ফেরি ঘাটসহ মহাসড়কে ভোগান্তি লাঘব, যে কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথ ভাবে কাজ করবে। যাত্রী হয়রানি বন্ধে মহাসড়কের একাধিক পয়েন্টে ভ্রাম্যমান আদালতসহ ঘাটে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।
কুষ্টিয়াগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের চালক সৌরভ বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া উভয় ঘাটের পন্টুন অনেকটা নিচে নামানো হয়েছে। এছাড়া পন্টুন থেকে রাস্তার উঠার অ্যাপ্রচ সড়ক অনেকটাই ঢালু আর বৃষ্টি হলে যানবাহন উঠানামাতে দূর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশেই বেড়ে যাবে। অপর দিকে পদ্মার ভাঙ্গনে পন্টুন - ঘাট বিলীনের ভয়ও রয়েছে।
পশুবাহী যানবাহনের চালক রহমান মিয়া বলেন, আমরা সব সময় এই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট হয়েই চলাচল করি। ঈদের সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ থাকে আর ওই সময়টাতে ঘাটে পর্যাপ্ত সেফটি তেমন দেখা যায় না। বর্তমানে পন্টুনে যেতে যে রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে তা ঝুঁকিপূর্ণ, গাড়ীর ব্রেক কোন কারণে এক/দুই সেকেন্ড মিস করলেই বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চের সুপারভাইজার ফারুক হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া এবং আরিচা–কাজিরহাট নৌরুটে এবার সর্বমোট ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুস সালাম আজকের দৈনিককে বলেন, দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল থেকে আগত কোরবানির পশু গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নৌপথ পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ঘরমুখো মানুষদেরকে নির্বিঘ্নে পদ্মা নদী পারাপারে পর্যাপ্ত ফেরি রয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ( বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম আজকের দৈনিককে জানান, পদ্মার ভাঙনে ৫ ও ৪ নম্বর ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলেছি। এছাড়া ঘাট গুলোর স্থায়ী সংস্কার এবং পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে ২০ কোটি টাকার একটি চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কৌশিক বলেন, মহাসড়কে যানজট না হয় সে জন্য আমরা জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছি। অপর দিকে সড়কে যে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে আমাদের হাইওয়ে পুলিশের (মোবাইল টিম) টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া “হ্যালোএইচপি” অ্যাপের মাধ্যমে সকল ধরনের দূর্ঘটনার তথ্য জানিয়ে তাৎক্ষণিক সেবা পেতে পারবেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম আজকের দৈনিককে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জেলা পুলিশ ফেরি ঘাট ও সড়কে ভোগান্তি লাঘবে সর্বোচ্চ কাজ করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পশুবাহী যানবাহন গুলোকে নির্বিঘ্নে চলাচলসহ সকল ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা আজকের দৈনিককে জানান , পাটুরিয়া, আরিচা ঘাটসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমান আদালত যাত্রী হয়রানি বন্ধে এক যোগে কাজ করা হবে।
আ.দৈ/আরএস




















