জমি বিক্রির টাকা নিতেই গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয়
এনাম আহমেদ,বগুড়া

জমি বিক্রির টাকা লুটের পরিকল্পনা থেকেই বগুড়ার গাবতলী গৃহবধূ রিতা মজুমদারকে গলাকেটে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ।
এর আগে গত ২০ মে রাতে উপজেলার মমিনহাটা গ্রামে রিতা মজুমদারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন, মমিনহাটা পূর্বপাড়ার ফরিদ প্রামানিকের ছেলে শাওন মিয়া (২০) এবং একই এলাকার মোকলেছের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তারা দুজনেই পেশায় দিনমজুর।
পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তাররা আমাদের জানিয়েছে, আনোয়ার ও শাওন এক সঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতেন। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারেন, রিতা মজুমদারের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। এরপর দুজন মিলে টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র কিনে আনেন। ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বাড়ির বাইরে ধান ও খড় তোলার কাজে গেলে দুই আসামি বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত সোয়া ১২টার দিকে শাওন দরজায় ধাক্কা দেন।
শব্দ পেয়ে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হলে তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে আনোয়ার তার হাতে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিতার গলায় কোপ দেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবহৃত অস্ত্র দুটি বয়ারবাড়ী বিলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। জানতে পেরে রবিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে। এর পাশাপাশি আসামিদের কাছ থেকে হত্যার সময় পরিহিত পোশাক, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
আ.দৈ/আরএস




















