এক মণ ধানে মেলেনা ১ কেজি গোস্ত
মিজানুর রহমান, (লালমনিরহাট)

উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট জেলায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্ত বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপদে। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় ফড়িয়ারা সিন্ডিকেট করে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে মিল মালিকদের কাছে কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন, এতে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন ধানের ন্যায্য মুল্য থেকে।
চলতি মৌসুমে এক মণ ধানের তুলনায় গরুর মাংসের দাম অনেক বেশি। এক মণ ধানের বর্তমান বাজারদর প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যেখানে এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।
দুরাকুটি হাটে ধান বিক্রি করতে আাসা কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত হাটে ধানের বাজার ভালোই ছিল। ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি।এ কারণে আজকে হাটে ৩ মণ ধান এনেছি। কিন্ত ধান নিয়ে এখন বিপদে পড়েছি। ৬৫০ টাকার বেশি দাম উঠছে না। তার মানে প্রতি মণে ২০০ টাকা নাই। ফড়িয়ারা সিন্ডিকেট করে কম দাম চাপিয়ে দিচ্ছেন। সামনে ঈদ কে কেন্দ্র করে কৃষকরা কম মূল্যেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
দুর্গাপূর ইউনিয়নের কালিরহাট গ্রামের আব্দুল মজিদ জানান, এ বছর এক একর জমিতে আমনের আবাদ করেছেন, এতে ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। জমি থেকে প্রায় ৩০মণ ধান গোলায় তুলেছেন তিনি। সারা বছরের খোরাকি রেখে বাকি ধান বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে দেখেন ধানের দাম কম।
অনেকটা বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করতে হয়েছে তাঁকে, ৬৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করেছেন তিনি। অথচ এক মণ ধান উৎপাদন করতে তাঁর খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৮৫০ টাকা। এই অবস্থায় প্রতি মণে তাঁকে অন্তত ২০০ টাকা করে লোকসান গুনতে হয়েছে। ঈদ কে সামনে রেখে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরত্ব বাড়ায় কৃষক ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামার বাড়ি)কর্মকর্তা উপপরিচালক সাইখুল আরিফিন আজকের দৈনিককে জানান, বাজারে ধানের দাম কম। এজন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধানের দাম পেতে উদ্দোগ গ্রহন করেছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি অফিসারের মাধ্যমে কৃষকদের অবহিত করছি, যাতে তারা অ্যাপে আবেদন করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারেন।
আ.দৈ/আরএস




















