রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হালদার এক পাশে ভাঙনরোধের চেষ্টা, অন্য পাশের মাটি বিক্রি
আজগর আলী, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ৮:১৭ পিএম   (ভিজিট : ৩৫)
X

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া এলাকায় এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর এক পাশে সরকারিভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের কাজ চললেও, অন্য পাশে রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে পাড় কেটে মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে।

 জানা গেছে, সুয়াবিল ইউনিয়ন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে শত শত জিও ব্যাগ ফেলে নদীর পাড় রক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু এর বিপরীত পাশে সুন্দরপুর অংশে ৫ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্ত করে নদীর পাড় কেটে ফেলা হচ্ছে। এসব মাটি পরে বিভিন্ন ভিটা, পুকুর ও জমি ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সরওয়ার কামাল, মো: আকবর ও কুদ্দুসসহ কয়েকজনের একটি চক্র রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত স্কেভেটর ও পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করে এই মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কয়েকদিন ধরে রাতের বেলায় নিয়মিতভাবে পাড় কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচপুকুরিয়া–সিদ্ধাশ্রম নির্মাণাধীন সেতুর উত্তরে সুয়াবিল অংশে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও, ঠিক বিপরীত পাশে নদীর পাড় ব্যাপকভাবে কাটা হয়েছে। কিছু জায়গায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকার কয়েকজন জানান, এসব মাটি বিভিন্ন ব্যক্তিগত জমি ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি ভিটায় হালদার পাড় কেটে আনা মাটি পাওয়া গেলেও, শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

অভিযোগের বিষয়ে সরওয়ার কামাল, মো. আকবর ও কুদ্দুস বলেন, তারা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে নদীর পাড় কাটা অব্যাহত থাকলে হালদার স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে মা মাছের ডিম ছাড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রামে পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিক সিফাতুল্লাহ সিফাত বলেন, নদীর পাড় কাটা মানে এর প্রাকৃতিক গঠন পরিবর্তন করা, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী  ড.মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন আজকের দৈনিককে জানান, নদীর পাড় কাটা হলে ভাঙন ও গতিপথ পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

হালদা নদী গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা সংরক্ষিত ও হেরিটেজ ঘোষিত নদী হওয়ায় এখানে বালু উত্তোলন বা পাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব কার্যক্রম আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আজকের দৈনিককে জানান, বিষয়টি তার আগে জানা ছিল না। এখন তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযান না চালানো হলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝