রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আধুনিকতার প্রভাবে কামার পাড়া নীরব-নিস্তব্ধ
আশিকুর রহমান মিঠু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯:১১ পিএম   (ভিজিট : ৪৯)
X

সামনে কোরবানির ঈদ তাই একসপ্তাহ আগে মায়ের পীড়াপীড়িতে একটি বটি দা বানানোর অর্ডার দিয়েছিলাম। আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ডেলিভারি দেওয়ার ডেইট,তাই দা'টা নিতে এলাম গোকর্ণ গ্রামের কামাড় পাড়ায়।

আর বাকী ছুরি,টাকসাল যাকিছু লাগে মার্কেট থেকে কিনে নিব। মার্কেটের জিনিসগুলো অনেক আধুনিক।দামেও সস্তা। কথাগুলো বলছিলেন শহরের কাজীপাড়ার রফিকুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবািড়য়া পৌর এলাকার গোকর্ণ গ্রামের গনেষ কর্মকার পিতৃহারা হন দশ বছর আগে। এরপর মা, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। সংসার চালাতে প্রতি মাসে তার ব্যয় হয় ২০ হাজার টাকা। কিন্ত বাপ-দাদার পেশা কামার শিল্পকে আঁকড়ে ধরে ঠিকমতো সংসারের খরচ যোগাতেই কষ্ট হয় তার। ধার-দেনায় জড়িয়ে কোনমতে সংসারের ঘানি টানতে হয় গনেষকে।

গনেষ কর্মকারের মতো কামার শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেরই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে তারা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। গনেষ কর্মকার জানান, এখন আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে দা, ছুরিসহ বিভিন্ন লৌহযন্ত্র তৈরি করে বাজার দখল করে ফেলায় কামার শিল্পে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা পেশা বদলে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। 

 সুবল কর্মকার জানান, এক সময় কামার শিল্পের অনেক কদর ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে তাদের হাতে তৈরী দা, বটি,  টাকশাল, ছুরি, কাস্তে, কোড়াল, কোদাল, খুন্তি, শাবলসহ বিভিন্ন লৌহযন্ত্র কিনে নিয়ে যেতো। সেসময় তাদের সুখের দিন ছিল। আর এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় দুর্দিন তাদেরকে ঘিরে ফেলেছে। অপেক্ষাকৃত কম দামে এসব জিনিস বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে তাদের কদর অনেকটাই কমে গেছে। 

গোকর্ণ গ্রামের কামার পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার বাসিন্দাদের মাঝে লোহার যন্ত্রপাতি নিয়ে কোন ব্যস্ততা নেই। কুরবানির ঈদের আগমুহুর্তের এই সময়ে যেখানে তাদের দম ফেলার সময় থাকার কথা নয়, অথচ সেই পাড়া এখন নীরব-নিস্তব্ধ। 

 জানা গেছে, এ পাড়ায় ৪০টি কামার পরিবারের বসবাস। এখন হাতেগোনা কয়েকটি পরিবারের লোক ছাড়া বাকিরা এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। 

হাতের তৈরী যন্ত্রপাতির দাম প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে প্রদীপ কর্মকার নামে আরেক কামার শিল্পী বলেন, লোহার ওজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি বিক্রি করেন তারা। এক কেজি ওজনের লোহার বটি দা এক পিস ৮০০ টাকা, টাকসাল মিডিয়াম এক পিস ৯০০ টাকা,  ছুরি ২৫০/ ৩৫০ টাকা, বটি দা ৫০০ টাকা, কুপের দা ৬০০ টাকা।

সুধীর কর্মকার নামে ওই পাড়ার এক কামার শিল্পী বলেন, পাঁচ বছর আগেও পাইকাররা যে পরিমান কাজের অর্ডার দিতো, এখন এর অর্ধেকও দেয়না। গত বছর যা বিক্রি করেছি তার চেয়ে এবছরের অবস্থা আরো খারাপ যাচ্ছে।  

তার দাবি,  রুগ্ন এই শিল্পটিকে বাঁচাতে হলে বিদেশ থেকে আমদানি করা মালামালের উপর আরোপিত করের (ট্যাক্স) দাম বাড়িয়ে দিতে হবে। তাছাড়া এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদেরকে সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝