রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীদের মানববন্ধন
রাজশাহী প্রতিনিধি

চাকরি রাজস্বখাতে স্থানান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তাসহ ৪ দফা দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছেন সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীরা।
গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাজশাহী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিভাগের সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে এতে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীরা অংশ নেন।
মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো ১. সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি অবিলম্বে রাজস্বখাতে স্থানান্তর করতে হবে। ২. রাজস্বখাতে স্থানান্তরের আগ পর্যন্ত সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে। ৩. দীর্ঘদিন অস্থায়ীভাবে কর্মরত কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। ৪. অস্থায়ী কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি বন্ধ করতে হবে এবং কোনো কর্মচারীকে শূন্য হাতে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের ৩৫০টি সরকারি কলেজে দীর্ঘ ১০ থেকে ২৫ বছর ধরে কর্মরত বেসরকারি কর্মচারীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করলেও তাদের চাকরি এখনো রাজস্বখাতে স্থানান্তর করা হয়নি।
এর আগে ২০২০ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কাফনের কাপড় পরে টানা ১৮ দিন অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এহসানুল কবীর বলেন, সরকারি কলেজগুলোতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির প্রায় ৮০ শতাংশ প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বেসরকারি কর্মচারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও তাদের চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। ২০১৩ ও ২০২০ সালে শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অভিজ্ঞ কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারির সময় অনেক কলেজে কর্মচারীদের মাসিক বেতন ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকার স্বল্প বেতনে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। অর্থাভাবে অনেক কর্মচারী চিকিৎসা নিতে পারেননি, এমনকি কেউ কেউ চাকরিও হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সুইট, নাটোর রানী ভবানী কলেজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সহ-সভাপতি মোখলেছুর রহমান, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন, রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীরা।
আ.দৈ/আরএস




















