’কালো মানিক’কে সৎ মানুষের কাছে বিক্রি করতে চান শফিক-জাহেদা দম্পতি!
আশিকুর রহমান মিঠু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

হালাল টাকার মালিক অথবা কোন সৎ ব্যক্তির কাছে তাদের ১৩’শ কেজির ‘কালো মানিক’কে বেঁচতে চান শফিকুল ইসলাম ও জাহেদা খাতুন দম্পতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কান্দি গ্রামে লালিত-পালিত হচ্ছে ১৩’শ কেজি ওজনের ‘কালো মানিক’। গরুটিকে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করেছেন শফিক জাহেদা দম্পতি। বৃহৎ আকারের ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক জনতা ভিড় করছেন।
গরুর মালিক শফিকুল ইসলাম ও জাহেদা খাতুন দম্পতি জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে খর, ভূষি কাঁচাঘাস খাইয়ে ২০২২ সাল থেকে গরুটিকে লালন পালন করছেন তারা। অনেক কষ্ট করে গত চার বছর ধরে তারা গরুটিকে বড় করেছেন। গরুটির ওজন এখন ৩৫ মণ। কেজির হিসেবে অন্তত ১’হাজার ৩১২ কেজি।
গরুটি অষ্টেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের। এটিকে তারা সন্তানের মতো করে লালন পালন করেছেন। দাম চাচ্ছেন ১৮ লাখ টাকা। তবে ঢাকার এক ক্রেতা ১১ লাখ টাকা দাম বলেছিলেন। পরে আর যোগাযোগ করেননি।
এদিকে প্রতিদিন গরুটিকে দেখার জন্য ভলাকুট ইউনিয়ন ছাড়াও নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসুক দর্শনার্থীরা ভীর করছেন। তারা গরুটির আকার আকৃতি দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রত্যন্ত অজপাড়া গ্রামের একটি খুপরি ঘরে বৃহৎ আকারের গরুটিকে কিভাবে লালন পালন করেছেন, এনিয়েও নানা প্রশ্ন তাদের মনে।
গরুটির দেখতে এসে নাসিরনগর উপজেলা সদরের রবিস নামে এক দর্শনার্থী বলেন, বাড়িটি একে বারে ছোট। ঘরটিও বেশ ছোট, এই ঘরে এতো বড় গরুটিকে কিভাবে লালন পালন করলো গৃহবধূ জাহেদা। তিনি জানান, গরুটির মালিকেরা সৎ ক্রেতা খুজতেছেন। আমরাও চাই গরুটির ক্রেতা যেন একজন সৎ ও ভাল মানুষ হয়।
দর্শনার্থী কুন্ডা গ্রামের ইফতি জানান, এ বছর নাসিরনগরে এতোবড় গরু বাড়িতে কেউ লালন পালন করেছে বলে আমার জানা নেই। আমার ধারনা এটি শুধু নাসিরনগরই নয় এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে গৃহপালিত সবচেয়ে বড় গুরু হবে বলে আমতো মনে করি।
ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়া জানান, নাসিরনগরের ভলাকুট গ্রামের ‘কালো মানিক’ এবার মাঠ কাঁপাবে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতি উপায়ে গুরুটিকে লালন পালন করা হয়েছে। এটি জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, গৃহপালিত এমন গরু যেন আরো বেশিকরে বাড়ী ঘরে পালন করা হয়, সে ব্যাপারে প্রানি সম্পদ কার্য্যালয়ের সাথে কথা বলে গ্রামাঞ্চলে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।
‘কালো মানিক’কে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সবচেয়ে বড় কোরবানির হাট ভাদুঘরে বিক্রির জন্যে তোলা হবে।
আ.দৈ/আরএস




















