বান্দরবানের দুই সড়কে দূর হবে পাহাড়ি জনপদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি
নুরুল কবির, (বান্দরবান)

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বাস্তবায়নে বান্দরবান সদর উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী জুন মাসে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সড়ক দুটি চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, রেইছা-গোয়ালিয়াখোলা সড়কের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই প্রকল্পে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছেন অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা এবং বাকি দুটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছেন ইউটিমং ।
ইতোমধ্যে তিনটি প্যাকেজের মধ্যে দুটি প্যাকেজের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। অপর একটি প্যাকেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাসে অবশিষ্ট ২০ শতাংশ কাজ শেষ হলে পুরো সড়কের দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্পন্ন হবে। এরপর যেকোনো সময় সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সড়ক চালু হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে রেইছা হয়ে সরাসরি রাঙামাটিতে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে যাত্রীদের বান্দরবান সদর হয়ে ঘুরে যেতে হয়। নতুন সড়ক ব্যবহারের ফলে প্রায় এক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন তারা। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। অন্যদিকে মনজয়পাড়া-রাজস্থলী বর্ডার সড়কের দুই কিলোমিটার উন্নয়ন কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ প্রকল্পে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইমু কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে সড়কটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুনে বাকি ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় রফিক ও শাহাব উদ্দিন জানান- সড়ক দুটি চালু হলে দুর্গম এলাকার কৃষকরা সহজেই কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারবেন। পাশাপাশি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং পর্যটকদের চলাচল আরও সহজ হবে। এতে এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম সিকদার আজকের দৈনিককে বলেন,এলজিইডি দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। সড়কগুলোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।
বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)নিবার্হী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান আজকের দৈনিককে জানান, সড়ক উন্নয়ন মানেই শুধু যোগাযোগ নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটনের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কাজ শেষ হলে সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন। পাহাড়ি জনপদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে এই দুই সড়ক চালু হলে বান্দরবানের দুর্গম অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্রিষ্টরা।
আ.দৈ/আরএস




















