কক্সবাজারে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা নিহতের ঘটনায় ১০ জনের নামে মামলা
চঞ্চল দাশগুপ্ত, কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়ায় দেয়ালে জয় বাংলা লেখাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় ছেলেকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত গৃহবধূ ছৈয়দা খাতুন (৫০) হত্যা মামলার অভিযোগপত্র অবশেষে ৪৮ ঘণ্টা পর থানায় দায়ের করা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
পাশাপাশি আরো ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। নিহত ছৈয়দা খাতুন উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সব্বির আহমেদের স্ত্রী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে রাতে টাইপালং গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি আব্দুর রহমানের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের মারধরে ঘটনাস্থলেই মারা যান ছৈয়দা খাতুন। সোমবার রাত ৮টার দিকে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমান উখিয়া থানায় মামলার এজাহার জমা দেন। পরে পুলিশ সেটিকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, নিহতের ছেলের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদারকে।
তার ছেলে ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসানকেও আসামি করা হয়েছে।অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্সচালক শামসুল আলম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, তার ছেলে ছাত্রদল নেতা জুলফিকার আকাশ, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ বাবুল, রাজাপালং ইউনিয়ন শ্রমিকদল (দক্ষিণ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিকদার, জাহাঙ্গীর আলম, জামাল উদ্দিন এবং রাজাপালং ইউনিয়ন যুবদল নেতা রফিক উদ্দিন।
মামলার বাদী আব্দুর রহমান বলেন, আমার মাকে আমার সামনেই হত্যা করা হয়েছে। যাদের আমি ঘটনাস্থলে দেখেছি, তাদের নামই মামলায় দিয়েছি। হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।
আ.দৈ/আরএস




















