পুলিশকে দুই লাখ টাকা না দেয়ায় চুরির মামলা !
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকায় পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে দোকানের মালিক ও কর্মচারীদেরকে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে উৎকোচ আদায় করে তা ভাগাভাগি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে নিরীহ লোকদের।
জানা গেছে, গত রোববার হাজারীবাগ থানার বেড়ীবাঁধ এলাকায় এক ভাংগীর ব্যবসায়ী সামসুল আলম-এর ৩ কর্মচারীকে জোরপূর্বক পুলিশের গাড়িতে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল। দুপুর দেড় ধরে দিকে হাজারবাগ থানা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী নাহিদ আক্তার ও আরমানসহ ৮/১০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী বেড়ীবাঁধ এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামসুল আলমের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে প্রথমে অস্বীকার করেন শামসুল। পরে তাকে সন্ত্রাসীরা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়, এক পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়। টাকা নেয়ার পরেও নাহিদ থানার ফোন করে জানান, সামসুল আলমের দোকানে অবৈধ মালামাল বিক্রি হয়।
এ ঘটনার পর হাজারীবাগ থানার একআই হেলাল ও সঙ্গীর ফোর্স এসে সামসুল আলমের ছেলে জুয়েল ও দুই কর্মচারী নাছিম নাজমুলকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর দোকান মালিক শামসুল আলম এ প্রতিবেদককে বিষয়টি জানালে এসআই হেলাল ঐদ্ব্যত্যপুর্ণ আচারণ করেন। পরে বিষয়টি রমনা জোনের ডিসিকে জানানো হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি ও এ ব্যাপারে কোন আইনগত সুবিধা না দিয়ে তিনি হাজারীবাগ থানার ওসিকে বিষয়টি দেখার জন্য আদেশ করেন।
এদিকে বিষয়টি ডিসিকে জানানোর কারণে ওসি তিনজনকে গ্রেফতার করে এবং শামসুল আলমকে ও আসামি করেন। শামসুল আলম জানান, থানা পুলিশকে মোটা অংকের টাকা না দেয়ার কারণে তাদের সবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এসআই হেলাল তার নিকট ২ লাখ টাকা দাবি করছিলেন। টাকা না দেয়ার কারণে তাকে ছেলেসহ মোট ৪ জনকে আসামি করে গত রোববার রাতে একটি মামলা করেন। মামলায তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে গত সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান হাজারীবাগ থানার ওসি যোগদানের পর পুলিশ ব্যাপক চাঁদবাজি শুরু করেছে। এসআই হেলালের দ্বারা তিনি নানা ওপারে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।ডিএমপির এখনো কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার কারণে গোটা পুলিশ বিভাগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।
আ.দৈ/আরএস




















