রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন দাতা প্রতিনিধিদের
চঞ্চল দাশ গুপ্ত, কক্সবাজার

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন ও মানবিক সহায়তা নিয়ে কক্সবাজারে একটি উচ্চপর্যায়ের বিদেশি দাতা প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে।কক্সবাজারের শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন সমন্বয়ক কমিশনের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন ইউএনএইচসিআর, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং ঢাকায় অবস্থানকারী বিভিন্ন দেশীয় মিশনের প্রধানরা।
বৈঠকের আগে প্রতিনিধি দল ইউএনএইচসিআর-এর উপ-হাই কমিশনার কেলি ক্লেমেন্টস এবং ডব্লিউএফপির রানিয়া দাগাশ-কামারা নেতৃত্বে কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। তাতে তারা শরণার্থী সমাজের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং নারী, পুরুষ ও অন্যান্য স্তরের মানুষের কাছ থেকে সরাসরি মতামত গ্রহণ করেন। সোমবার (১৮ মে) অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরআরআরসি প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান অতিথিদের স্বাগত জানান।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইউএনএইচসিআর ও ডব্লিউএফপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সহ যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সারা কুক, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় কমিশন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, জাপান, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডসহ প্রধান দাতা অংশীদারদের শীর্ষ প্রতিনিধি।বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বয় বাড়ানোর উপায়।
সম্মেলনে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নিয়ে গঠনমূলক ও বিস্তারিত আলোচনা হয়।এর মধ্যে ছিলো-ক্যাম্পে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং বেসামরিক চরিত্র সংরক্ষণ। সম্ভাব্য নতুন আগমনকারীদের মোকাবিলায় প্রস্তুতি: জরুরি ত্রাণসামগ্রী, স্বাস্থ্য ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা, এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়ানো। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের গুরুত্ব, বিশেষত শিশু ও কিশোরদের স্কুল পুনরায় চালু করা, পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং জীবনকুশলতা কার্যক্রম বাড়ানো।
কক্সবাজারে চলমান মানবিক কার্যক্রম টেকসইভাবে পরিচালনার জন্য তহবিলের স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগিতা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা জোরদার করার প্রয়োজন।হিউম্যানিটেরিয়ান-ডেভেলপমেন্ট-পিস সমন্বয় বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসন বা স্থায়ী সমাধান সংক্রান্ত নীতিগত প্রস্তুতি।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের মানবিক নেতৃত্ব, আরআরআরসি’র দায়বদ্ধতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতাকে প্রশংসা করেন। তারা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, ভ্যাকসিনেশন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রমের কার্যকারিতা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে যে ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও অনিশ্চিত ভূ-রাজনীতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তৎক্ষণাৎ তহবিল ও কৌশলগত সমন্বয় অত্যাবশ্যক।আরআরআরসি বৈঠকে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে যে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি, দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।আরআরআরসি একটি বিবৃতিতে অংশগ্রহণকারী দাতা ও উন্নয়ন অংশীদারদের অব্যাহত সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে এবং জানিয়েছে যে সরকার, বেসরকারি অনুদান ও বহুপাক্ষিক তহবিল একসঙ্গে গেলে মানবিক সেবা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় টেকসই অগ্রগতি সম্ভব।বৈঠকের শেষ পর্যায়ে অংশীদাররা দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য অগ্রাধিকারের একটি রূপরেখা তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে রয়েছে তাত্ক্ষণিক তহবিল যাতে জরুরি চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা যায় এবং মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলোর জন্য সমন্বিত অর্থায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ।
এছাড়া কক্সবাজার অঞ্চলের স্থানীয় ক্ষমতা নির্মাণ, তথ্যসংরক্ষণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কর্মপ্রণালীতে সমঝোতাও করা হয়।বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল সোমবার বিকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করে।
আ.দৈ/আরএস




















