নাইক্ষ্যংছড়িতে বৃষ্টিতেই ভেঙ্গ গলে জারুলিয়াছড়ি সড়কের ম্যাকাডাম
নুরুল কবির, বান্দরবান

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে নির্মাণাধীন উপবন লেক হতে জারুলিয়াছড়ি সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের একটি অংশের ম্যাকাডাম ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিয়ম মেনে কাজ না করাসহ নিম্নমানের ম্যাকাডম ব্যবহারের কারণে নির্মাণের শুরুতেই সড়কের এমন বেহাল দশা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃকপক্ষের সঠিক তদারকির মাধ্যমে গুনগত মান ঠিক রেখে সড়ক নির্মাণের দাববি জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে উপবন লেক থেকে জারুলিয়াছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কেবল ম্যাকাডামের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে আরো বশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন লাইসেন্সধারী ঠিকাদার অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। তবে শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের গাফিলতির অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা জহির ও মনির অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারপক্ষ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটাচ্ছে। একজন নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এবং অন্যজন আলীকদম উপজেলা বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে যেনতেন ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। তাদের দাবি, কাজের শুরু থেকেই সড়কে নিম্নমানের খোয়া ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। যথাযথ তদারকি না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের একটি অংশ ভেঙে পড়ে, যা পুরো প্রকল্পের মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আশরাফুল আমীন ফরহাদ আজকরে দনৈকিকে জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের একটি অংশের ম্যাকাডাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুননিমার্ণ করা হবে। কাজের গুণগত মান বজায় রাখতেই আমরা সর্বোচ্চ চষ্টো করছি।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কাজে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নয়ো হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ সারোয়ার হোসেন আজকরে দনৈকিকে বলেন, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রকল্পের ময়োদ জুন পর্যন্ত রয়েছে। ময়োদ বৃদ্ধির আবেদন করা হলেও এখনো অনুমোদন হয়নি। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্রিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নওেয়া হবে।
আ.দৈ/আরএস




















