বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজায় হাজারো মানুষ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

বুধবার (১৪ মে) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি পেশাজীবী হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে রাখা মরদেহে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত জনতা।
এ সময় উপস্থিত অনেককেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, জীবনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন একজন পরোপকারী রাজনীতিবিদ ছিলেন। বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অনেক অবদান রেখেছেন। এমন অবদানের জন্য চট্টগ্রামবাসী উনাকে সবসময় স্মরণে রাখবে।
মরহুমের পারিবারিক সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েক দিন আগে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, জানাজা শেষে মীরসরাই নিজ গ্রামে দাফন করা হবে ।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর মেজো ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব উর রহমান রুহেল ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
১৯৬৬ সালে লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আ.দৈ/আরএস




















