মাদরাসার নামে খাস জমি দখলের অভিযোগ
আজগর আলী, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি মাদরাসার নাম ব্যবহার করে সরকারি ও সড়কের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব ফরহাদাবাদ এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজভান্ডার সড়কে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত মাদরাসাতুল মদিনা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মামুন আত্বারীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদরাসার নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি ও সড়কের অংশ দখল করে ধাপে ধাপে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখলের পরিধি বাড়ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হাসান মানিক বলেন, মাদরাসার নাম ব্যবহার করে আশপাশের খালি জায়গা দখলের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বিক্রির জন্য চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন বলেও তারা জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই কয়েক মাস ধরে সরকারি জায়গায় নির্মাণকাজ, সড়কের পাশে গর্ত খনন এবং স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। এতে সরকারি সম্পত্তি ধীরে ধীরে ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবাদকারী স্থানীয়রা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকারি জায়গা দখল, সড়কের পাশে পুকুর খনন এবং বহুতল স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসাতুল মদিনার পরিচালক মামুন আত্বারী ফোনে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সরকারি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি জানতে হলে সরাসরি মাদরাসায় গিয়ে কথা বলতে হবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আজকের দৈনিককে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বা সড়কের জায়গা দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
আ.দৈ./ এম.এস




















